• শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১ , ৩ বৈশাখ ১৪২৮
  • আর্কাইভ

শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১ , ৩ বৈশাখ ১৪২৮

স্বপ্নের ‘তিস্তা ব্যারাজ’ এখন ধুধু বালুচর

বার্তাজগত২৪ডেস্ক
প্রকাশিত :বুধবার, ফেব্রুয়ারী ২৪, ২০২১, ০৯:১৭

  • তিস্তা ব্যারাজ

    দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ পরিণত হয়েছে ধু-ধু বালুচরে। বালুর কারণে মূল নদী তার গতিপথ হারিয়েছে। পানি না থাকায় দীর্ঘ এ নদীটির প্রায় ১৩০ কিলোমিটার মরুভুমি রূপ ধারণ করেছে। খাঁ-খাঁ করছে নদীর শুকিয়ে যাওয়া অংশ টুকু। নদীতে কোনো স্রোতনা থাকায় স্ববিরোটা বিরাজ করছে নদীতটে, নেই নৌকা চলাচলও।
    বর্ষা মৌসুমে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প ‘তিস্তা ব্যারাজ’ রক্ষায় খুলে দেয়া হয় ৫২ গেট। এতে শুধু ব্যারাজের আশপাশের বাসিন্দারাই নন, ভাটিতে থাকা লাখ লাখ মানুষও পানিবন্দি হয়ে পড়ে। এ সময় নদীভাঙনে বসতভিটাসহ সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে কয়েক লাখ পরিবার। তাদের কেউ বাঁধের রাস্তায় কেউ বা অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়ে আছেন। অথচ মাত্র মাস তিনেকের ব্যবধানে সেই তিস্তা নদী এখন  ধু-ধু বালুচরে রূপ নিয়েছে।



    প্রতিবেশী দেশ ভারতের সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নীলফামারীর কালীগঞ্জ উপজেলার ভারতীয় সীমান্ত ঘেঁষে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে তিস্তা নদী। এর পর নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও গাইবান্ধা জেলার মধ্যদিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুড়িগ্রামের চিলমারী বন্দর হয়ে ব্রহ্মপুত্র নদের সাথে মিলিত হয়েছে। ৩১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ নদীর বাংলাদেশ অংশে রয়েছে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার। গজলডোবায় বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে ভারত সরকার একতরফা তিস্তার পানি নিয়ন্ত্রণ করায় প্রতিবছর বর্ষা শেষ হতে না হতেই বাংলাদেশ অংশে মরা খালে পরিণত হয় এই খরস্রোতা নদী।

    তিস্তার পানিবন্টন চুক্তির সঠিক বাস্তবায়ন না হওয়ায় একদিকে যেমন বর্ষা মৌসুমে ভারত থেকে নেমে আসা ঢলে প্রতিবছর হাজার-হাজার মানুষ নিঃস্ব হচ্ছে, তেমনি শুষ্ক মৌসুমেও তিস্তা ব্যারাজ সংলগ্ন স্থানে ভারত তাদের গোজলডোবায় বাঁধের সাহায্যে একতরফাভাবে পানি আটকিয়ে দিচ্ছে। ফলস্বরূপ বাংলাদেশের উত্তর জনপদের লাখ লাখ কৃষকের বোরা চাষাবাদ ব্যাহত হয়। ফলে দিনে দিনে প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে দেশের বৃহত্তম এই সেচ প্রকল্পটি।

    সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে যে হারে পানি প্রবাহ কমে আসছে এ নদীতে তাতে করে খুব দ্রুতই কাঙ্ক্ষিত পানিচুক্তি সম্পন্ন না হলে মরা খালে পরিণত হতে পারে বহুল আলোচিত তিস্তা নদী। ফলে নদীর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা উত্তর জনপদের জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন হবে।

    আগামী ২৬ মার্চ ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঢাকা সফরের সূচি চূড়ান্ত হওয়ায় আশায় বুক বাধঁছেন তিস্তাপারের কোটি মানুষ। 

    সরেজমিন দেখা গেছে, তিস্তার মূল নদীতে বড় বড় বালুর স্তুপ, পানি শূন্য নদী।  চোখ জুড়ে শুধুই বালুচর। ব্যারাজের মোট ৫২ গেটের মধ্যে ৪৫টিই বন্ধ করে উজানে পানি আটকানোর চেষ্টা করছে ভারত। এতে করে যেটুকু পানি উজানে জমছে তাতেই ব্যারাজটির বাকি ৭টি  গেটের মাধ্যমে ইরি ধানের জন্য সেচ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

    তিস্তা পাড়ের আব্দুল মালেক বলেন, ‘এই তিস্তা নদী আমাদের কোনো উপকারে আসে না। শুধু প্রতিবছর ভাঙনে আর পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হই।’

    তিস্তা পাড়ের জেলে হযরত আলী (৪৫) বলেন, ‘তিস্তায় পানি নেই। একেবারেই শুকনো নদী। জোয়ারে যে পানি আসে সে পানি দিয়ে ইরি ধান চাষ হয়। দুই দেশের সরকার যদি যোগাযোগ করে তিস্তায় পানি দেয় তাহলে হাজার হাজার জেলে বাঁচবে।’


    কালীগঞ্জ উপজেলার চর বৈরাতী গ্রামের কৃষকেরাও তিস্তায় পানি না থাকায় ভুট্টা ও কুমড়া ক্ষেতে সেচ দিতে পারছেন না। শ্যালোমেশিন বসিয়ে ক্ষেতে সেচ দিতে হচ্ছে। এভাবে সেচ দিতে গরিব কৃষকেরঅর্থের অপচয়  হচ্ছে।  নদীতে পানি থাকলে গরিব কৃষকের এ অর্থ দণ্ড দিতে হতো না। ।

    কিন্তু তিস্তা ব্যারাজ ডালিয়া পয়েন্টের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘তিস্তা নদীর উজানে বর্তমানে দুই হাজার ৫০০ কিউসেক পানি আছে। তা দিয়ে সেচ কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘তিস্তা নদীর অস্তিত্ব রক্ষার জন্য প্রয়োজন কমপক্ষে চার হাজার কিউসেক পানি। কিন্তু ডিসেম্বর মাসের পর থেকে তিস্তায় পানি প্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে যায়।’
     

    • সর্বশেষ
    • সর্বাধিক পঠিত
    শনি
    রোব
    সোম
    মঙ্গল
    বুধ
    বৃহ
    শুক্র

    সম্পাদক: দিদারুল ইসলাম
    প্রকাশক: আজিজুর রহমান মোল্লা
    মোবাইল নাম্বার: 01711121726
    Email: bartajogot24@gmail.com & info@bartajogot24.com