আজ শনিবার, ১০, ডিসেম্বর ২০২২

| কাল
০১ঃ ২১ঃ ৩২ |

Logo
সর্বাধিক পঠিত | সর্বশেষ | গ্যালারী |

ছাত্রলীগের সম্মেলন : বয়সের কারণে বাদ পড়বেন আলোচিতরা

শফিক আহমেদ ভুইয়া :

প্রকাশ: বুধবার ২৩ নভেম্বর, ২০২২ - ০৫:৫৯ পিএম

দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলনের একটি ঐতিহ্য আছে। এখানে একদিকে যেমন নবীন-প্রবীণের মেলবন্ধন হয় তেমনি বেরিয়ে আসে নতুন নেতৃত্ব। প্রত্যেক সম্মেলনের আগেই কারা কারা নতুন নেতৃত্বে আসতে পারেন তা নিয়ে শুরু হয় আলোচনা-গুঞ্জন। বিশেষ করে সংগঠনের প্রধান দুটি পদ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে কারা আসতে পারেন সেদিকে থাকে সবার দৃষ্টি। সম্মেলনের দিনক্ষণ ঘোষণার সময় থেকেই শুরু হয় পদ প্রত্যাশীদের জোর লবিং তদবির। নেতৃত্ব প্রত্যাশীদের মধ্যে কাজ করে এক ধরনের স্নায়ু চাপ। নিজ নিজ বলয়ে চলে লবিং গ্রুপিং।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৩০তম সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ৮ ও ৯ ডিসেম্বর এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

সম্মেলনের তারিখ নির্ধারিত হওয়ায় ইতোমধ্যে দলের হাইকমান্ডের কাছে তদবির করছেন ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশী নেতারা, চলছে জোর লবিং।

জানা গেছে , এবারও ছাত্রলীগের সম্মেলনে সরাসরি ভোটের পরিবর্তে সিলেকশন পদ্ধতিতে নেতৃত্ব নির্বাচন হতে পারে। তবে প্রক্রিয়া যা-ই হোক না কেন, দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনাতেই তা চূড়ান্ত হবে।

পদপ্রত্যাশীরা দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ের দিকে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে।

আওয়ামী লীগের এক সূত্রে জানা গেছে, পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে যাদের সাংগঠনিক সক্ষমতা ভালো, রয়েছে ক্লিন ইমেজ এবং যাদের পরিবারের সঙ্গে জামায়াত-বিএনপির কোনও সংশ্লিষ্টতা নেই, তারাই আগামীর নেতৃত্বে আসবে। এছাড়াও যারা শিক্ষার্থীদের কাছে জনপ্রিয় এবং মানবিক কাজ করে আলোচনায় আসতে পেরেছেন, এমন ছাত্রনেতারাই এগিয়ে থাকবেন।

এবার কোভিড পরিস্থিতি এবং দীর্ঘ সাড়ে চার বছর সম্মেলন না হওয়ায় বয়সসীমা শিথিলের দাবি তুলেছেন অনেক নেতাকর্মী। সর্বশেষ ছাত্রলীগের সম্মেলন হয়েছিল ২০১৮ সালের ১১ ও ১২ মে। এ কারণে যোগ্যতাসম্পন্ন অনেক নেতারই বয়সসীমা ২৯ ছাড়িয়ে গেছে। বয়সের বাধ্যবাধকতার কারণে এবার ছাত্রলীগের শীর্ষ পদগুলোয় আলোচিত নেতাদের অনেকেই বাদ যাবেন।

তবে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের এক বিশ্বস্ত সূত্র থেকে জানা যায়, এবার বয়সের ক্ষেত্রে ছাড় দেয়া হবে না। নিয়মিত ছাত্রদের হাতেই নেতৃত্ব আসবে। নিয়মিত ছাত্রদের বাইরে নেতৃত্ব আসলেই নেতৃত্বের জটিলতা তৈরি হয়। সে জটিলতায় এবার যাওয়া হবে না। তবে সব কিছুর চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বয়সের শিথিলতা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, গঠনতন্ত্রে বয়সসীমার একটি বিষয় রয়েছে, এটি যেমন বাস্তবতা, আবার আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবতার কারণে কাউন্সিল করতে পারি না। এটিও একটি বাস্তবতা। ৩০তম কাউন্সিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং কাউন্সিলররা যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন, সেটি ছাত্র সমাজের পরম প্রত্যাশা।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমান বলেন, পরিচ্ছন্ন, পরীক্ষিত, ত্যাগী এবং দল ও নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য— এ ধরনের বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে নতুন নেতৃত্ব ঠিক হবে।

আব্দুর রহমান বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত ছাত্রলীগের নেত্রী শেখ হাসিনা এটাকে অন্য বিবেচনায় না নিবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত এ বয়সসীমা ঠিক আছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ৩০তম সম্মেলনে শীর্ষ পদে আসীন হওয়ার দৌঁড়ে আলোচনায় আছেন :-

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগৈর সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন ,কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি সোহান খান, ইয়াজ আল রিয়াদ, প্রদীপ চৌধুরী, সৈয়দ আরিফ হোসেন, কামাল খান, সহ-সভাপতি খায়রুল হাসান আকন্দ, সহ-সভাপতি রাকিব হোসেন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক তাহসান আহমেদ রাসেল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান আল ইমরান, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ (ইনান), সাংগঠনিক সম্পাদক সাদ বিন কাদের চৌধুরী, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক হায়দার মোহাম্মদ জিতু, গ্রন্থনা ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক আবু হাসনাত হিমেল, কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক রনি মুহম্মদ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মেহেদী হাসান তাপস, মানবসম্পদ উন্নয়ন সম্পাদক নাহিদ হাসান শাহিন, আইন বিষয়ক সম্পাদক ফুয়াদ হোসেন শাহাদাত , কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-সমাজসেবা সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত, বিজ্ঞান বিষয়ক উপ-সম্পাদক খন্দকার হাবিব আহসান, কর্মসংস্থান বিষয়ক উপ-সম্পাদক খাদিমুল বাশার জয়, ও সহ সম্পাদক রিপন মিয়া।

জানা যায়, ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে সোহান খান, প্রদীপ চৌধুরী, ইয়াজ আল রিয়াদ, সৈয়দ আরিফ হোসেন, কামাল খান ত্রিশোর্ধ। আর সাদ বিন কাদের, মেহেদী হাসান তাপস, আবু হাসনাত হিমেল, শামীম পারভেজ, নাজিমুদ্দিন, নাহিদ হাসান শাহীন, তুহিন রেজা, আব্দুল্লাহ হিল বারী, বরিকুল ইসলাম বাধন, রনি মোহাম্মদ, ফুয়াদ হাসান শাহাদতের বয়স ৩০ বছরের মধ্যে।

তবে তাদের মধ্যে ২ সহ-সভাপতি ২ জন সম্পাদক ও ৩ উপ সম্পাদাকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে যার তথ্য গোয়েন্দা সংস্থার কাছে রয়েছে।আগামী পর্বে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে প্রতিবেদনের মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।

এ ছাড়া এবার ছাত্রলীগেকে বিকেন্দ্রীকরণের কথা ভাবছে হাইকমান্ড। এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে থেকে একজন নেতৃত্ব আসতে পারে বলে জানা গেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে এবার আলোচনায় যারা আছেন :-

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জোবায়ের আহমেদ, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হৃদয় সাইদুর রহমান হৃদয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-প্রচার সম্পাদক  আল আমিন শেখ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নূরুল আফসার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-সভাপতি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক হামজা রহমান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সম্পাদক তারেক আজীজ, ঢাকা কলেজ থেকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক আতিক হাসান রাব্বি।

ছাত্রলীগের সবশেষ ২৯তম জাতীয় সম্মেলন হয় ২০১৮ সালের মে মাসে। ওই বছরের জুলাইয়ে সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও গোলাম রাব্বানী। 

পরে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয় আল নাহিয়ান খান জয় ও লেখক ভট্টাচার্যকে। ২০২০ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জয় ও লেখককে ‘ভারমুক্ত’ করা হয়। এরপর থেকে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন জয়-লেখক।

সর্বমোট শেয়ারঃ ১০০
Facebook Twitter WhatsApp Messanger
আমাদের অ্যাপ

স্বত্ব © ২০২২ বার্তাজগৎ২৪ Design & Developed By softicode