আজ শনিবার, ১০, ডিসেম্বর ২০২২

| কাল
১২ঃ ৫০ঃ ১৬ |

Logo
সর্বাধিক পঠিত | সর্বশেষ | গ্যালারী |

কে এই ব্রাজিল তারকা ফুটবলার রিচার্লিসন?

বার্তাজগৎ২৪ ডেস্ক :

প্রকাশ: শুক্রবার ২৫ নভেম্বর, ২০২২ - ০৪:৫৮ এএম

এল সালভাদরের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলের প্রথম একাদশে অভিষেক হয়েছিল রিচার্লিসন। এভারটনের ইতিহাসে সবচেয়ে দামি এই ফরোয়ার্ডের শুরুর জীবন এত সুখকর ছিল না।

এভারটনের ইতিহাসে সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় হিসেবে নাম লিখিয়েছিলেন ব্রাজিল তারকা ফুটবলার রিচার্লিসন৷ জাতীয় দলের হয়েও শুরুটা হয়েছিলো দুর্দান্ত। অথচ তাঁর উঠে আসার পথটা মোটেও সহজ ছিল না। অনেক চড়াই-উতরাই গেছে জীবনের ওপর দিয়ে। রিচার্লিসনের ভাষায়, ‘কতগুলো ক্লাব আমাকে প্রত্যাখ্যান করেছে তা গুণে বলতে পারব না। কারণ আমার হাতে অত আঙুল নেই। একপর্যায়ে ফুটবল ছেড়ে দিতে চেয়েছিলাম।’

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘এএস’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের ফেলে আসা পথ নিয়ে এমন খোলামেলা কথাই বলেছিলেন রিচার্লিসন। খেলা ছাড়া না ছাড়ার দ্বিধায় ভোগার মধ্যেই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বেলো হরিজেন্তে যাবেন, শেষবারের মতো ট্রায়াল দিতে। পকেটে শুধু যাওয়ার ভাড়াটা নিয়ে বেলো হরিজেন্তে গিয়ে আমেরিকা ফুটবল ক্লাবে (এমজি) গিয়ে ট্রায়াল দিয়ে টিকে যান রিচার্লিসন। সেই দিনগুলোর কথা স্মরণ করে তাঁর উপলব্ধি, ‘ট্রায়ালে না টিকলে বাসায় ফিরতে পারতাম না। সেখান থেকে ৬০০ কিলোমিটার দূরে ছিল আমার বাসা। এখন ভাবি তখন হাল ছেড়ে দিলে আজ এখানে আসতে পারতাম না।’

ব্রাজিলের আর দশজন ফুটবলার মতোই দারিদ্র্যর সঙ্গে লড়াই করে বেড়ে উঠেছেন রিচার্লিসন। বাসা থেকে অনুশীলনস্থল দূরে ছিল তাই থাকতে হয়েছে চাচার বাসায়। অনুশীলনে যাওয়ার বাস ভাড়া ছিল না। পরিবারের আর্থিক অবস্থাও খারাপ হয়ে উঠেছিল। খেলার খরচ আর পরিবারকে সাহায্য করতে রিচার্লিসনকে তাই ফেরিওয়ালাও হতে হয়েছে। যা তিনি নিজের মুখেই স্বীকার করেছেন।
‘অনুশীলন করার জায়গা দূরে হওয়ায় চাচার বাসায় থেকেছি। অনুশীলনে যাওয়ার বাস ভাড়া থাকত না। পারিবারিক অবস্থাও ভালো ছিল না। তাই রাস্তায় মিষ্টান্ন দ্রব্য আর আইসক্রিম ফেরি করেছি পরিবারকে সাহায্য করতে। এসব করতেই হতো। কারণ পরিবারের জন্য সবাই যে কোনো কিছুই করতে পারে।’

ফুটবলে রিচার্লিসনের শৈশবের নায়ক তাঁর বাবা ও চাচা। দুজনেই ব্রাজিলের স্থানীয় ফুটবলে খেলেছেন। তবে পেশাদার ফুটবলে তাঁর আদর্শ ‘ও ফেনোমেনো’। রোনালদো। কিংবদন্তি এই খেলোয়াড়কে রিচার্লিসন বলতে গেলে অনুকরণই করার চেষ্টা করেন, ‘মাঠে নামার আগে সবারই কিছু সংস্কার থাকে। আমি যেমন ম্যাচ খেলতে যাওয়ার পথে ট্যাবলেটে তাঁর (রোনালদো) গোলের ভিডিও দেখি। এটা আমাকে প্রেরণা জোগায়।’

১৯৯৭ সালের ১০ মে ব্রাজিলের নোভা ভেনেসিয়ায়
জন্মগ্রহণ করেন রিচার্লিসন দে আন্দ্রাদে। ৬ ফিট ১ ইঞ্চি লম্বা এই খেলোয়াড় আক্রমণভাগে খেলে থাকে। তার জার্সি নাম্বার ৯। ২০১৩–১৪ মৌসুমে, ব্রাজিলীয় ফুটবল ক্লাব রেয়াল নোরোয়েস্তের যুব পর্যায়ের হয়ে খেলার মাধ্যমে রিচার্লিসন ফুটবল জগতে প্রবেশ করেছেন এবং পরবর্তীকালে আমেরিকা মিনেইরোর যুব দলের হয়ে খেলার মাধ্যমে তিনি ফুটবল খেলায় বিকশিত হয়েছেন। ২০১৫–১৬ মৌসুমে, ব্রাজিলীয় ক্লাব আমেরিকা মিনেইরোর মূল দলের হয়ে খেলার মাধ্যমে তিনি তার জ্যেষ্ঠ পর্যায়ের খেলোয়াড়ি জীবন শুরু করেছেন, যেখানে তিনি এক মৌসুমেরও কম সময় অতিবাহিত করেছেন; আমেরিকা মিনেইরোর হয়ে তিনি ২৪ ম্যাচে ৯টি গোল করেছেন। অতঃপর ২০১৬–১৭ মৌসুমে তিনি ফ্লুমিনেন্সেতে যোগদান করেছেন। ফ্লুমিনেন্সেতে মাত্র ১ মৌসুম অতিবাহিত করার পর প্রায় ১১ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে ইংরেজ ক্লাব ওয়াটফোর্ডের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন, যেখানে তিনি সকল প্রতিযোগিতায় ৩১ ম্যাচে ৫টি গোল করেছেন। ২০১৮–১৯ মৌসুমে, তিনি প্রায় ৩৫ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে ওয়াটফোর্ড হতে এভার্টনে যোগদান করেছেন।

২০১৭ সালে, রিচার্লিসন ব্রাজিল অনূর্ধ্ব-২০ দলের হয়ে ব্রাজিলের বয়সভিত্তিক পর্যায়ে অভিষেক করেছিলেন। তিনি ২০১৮ সালে ব্রাজিলের হয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অভিষেক করেছেন; ব্রাজিলের জার্সি গায়ে তিনি এ পর্যন্ত ৩৩ ম্যাচে ১২টি গোল করেছেন। তিনি ব্রাজিলের হয়ে এ পর্যন্ত ১টি কোপা আমেরিকায় (২০১৯) অংশগ্রহণ করেছেন, যার মধ্যে ২০১৯ সালে তিতের অধীনে কোপা আমেরিকার শিরোপা জয়লাভ করেছেন।

ব্যক্তিগতভাবে, রিচার্লিসন বেশ কিছু পুরস্কার জয়লাভ করেছেন, যার মধ্যে ২০১৭ সালে কাম্পেওনাতো কারিওকার বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জয় অন্যতম। দলগতভাবে, রিচার্লিসন এপর্যন্ত ১টি শিরোপা জয়লাভ করেছেন, যা হচ্ছে ২০১৯ কোপা আমেরিকার শিরোপা।

২০১৮ সালের ৮ই সেপ্টেম্বর তারিখে, মাত্র ২১ বছর ৩ মাস ২৯ দিন বয়সে, ডান পায়ে ফুটবল খেলায় পারদর্শী রিচার্লিসন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এক প্রীতি ম্যাচে অংশগ্রহণ করার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ব্রাজিলের হয়ে অভিষেক করেছেন। উক্ত ম্যাচের ৭৫তম মিনিটে কেন্দ্রীয় আক্রমণভাগের খেলোয়াড় রবার্তো ফিরমিনোর বদলি খেলোয়াড় হিসেবে তিনি মাঠে প্রবেশ করেন; ম্যাচে তিনি ৯ নম্বর জার্সি পরিধান করে একজন কেন্দ্রীয় আক্রমণভাগের খেলোয়াড় হিসেবে খেলেছেন। ম্যাচটি ব্রাজিল ২–০ গোলের ব্যবধানে জয়লাভ করেছিল। ব্রাজিলের হয়ে অভিষেকের বছরে রিচার্লিসন সর্বমোট ৬ ম্যাচে ৩টি গোল করেছেন। জাতীয় দলের হয়ে অভিষেকের ৪ দিন পর, ব্রাজিলের জার্সি গায়ে প্রথম গোলটি করেন।

সর্বমোট শেয়ারঃ ১০১
Facebook Twitter WhatsApp Messanger
আমাদের অ্যাপ

স্বত্ব © ২০২২ বার্তাজগৎ২৪ Design & Developed By softicode