• বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১ , ১ বৈশাখ ১৪২৮
  • আর্কাইভ

বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১ , ১ বৈশাখ ১৪২৮

১০ হাজার টাকার গুজব! দিনাজপুর বীরগঞ্জের স্কুল-কলেজে ভিড়

এনামুল মবিন(সবুজ) দিনাজপুর:
প্রকাশিত :রবিবার, মার্চ ৭, ২০২১, ০৩:১২

  • ১০ হাজার টাকা গুজবে কলেজে শিক্ষার্থীদের ভিড়

    বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) আওতাধীন সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক-কর্মচারী এবং ছাত্র-ছাত্রীদের অনুদান প্রদানের বিজ্ঞপ্তিতে টাকার পরিমাণ উল্লেখ নেই। নীতিমালা ও শর্ত অনুসারে সবাই আবেদনের যোগ্যও না। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়ানো হয়েছে সবাইকে অনুদান দেওয়া হবে ১০ হাজার টাকা করে।


    ফেসবুকের সেই গুজবের রেশ ধরেই গতকাল শনিবার (৬ মার্চ) দুপুর ১২ টায় বীরগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজে গিয়ে দেখা গেছে, অন্ততপক্ষে পাঁচ হাজার ছাত্রী ভিড় করেছে প্রত্যয়নপত্র নেওয়ার জন্য। কলেজ ক্যাম্পাস, ক্লাসরুম, একাডেমি ভবনের বারান্দা থেকে শুরু করে কোথাও তিল পরিমাণ ঠাঁই নেই। দেখা গেছে, কম্পিউটারে টাইপ করা প্রত্যয়নপত্রের ফরম লেখায় ছাত্রীরা মহাব্যস্ত হয়ে পড়েছে। কলেজের একাডেমিক ভবনের প্রত্যেকটি ক্লাস রুমের বেঞ্চে বসে ছাত্রীরা অপেক্ষা করছে প্রত্যয়নপত্র নেওয়ার জন্য। এই পরিস্থিতিতে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. শহীদুল্লাহ ও অন্যান্য শিক্ষকরা পড়েছেন চরম বিপাকে। যদি সব ছাত্রী তাদের প্রত্যয়নপত্র নিয়ে যায় তাহলে রাত ১০টা পর্যন্ত দিলেও দেওয়া শেষ হবে না। কলেজ ক্যাম্পাসের বাইরেও কম্পিউটারের দোকানগুলোতেও প্রচুর ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। শহরের সবগুলো কম্পিউটারের দোকানগুলোতে ব্যাপক ভিড় ছিল। শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করতে সঙ্গে তাদের অভিভাবকরাও এসেছেন। তবে বেশির ভাগ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মুখে মাস্ক নেই। বিজ্ঞপ্তিতে সবার জন্য সরকারি অনুদান দেওয়ার কথা বলা নেই। বলা আছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মেরামত, সংস্কার, আসবাবপত্র ক্রয়সহ অন্যান্য উন্নয়ন কাজের জন্য, শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের দূরারোগ্য ব্যাধি ও দৈব দুর্ঘটনার সহায়তার জন্য এবং শিক্ষার্থী যারা দূরারোগ্য ব্যাধি, দৈব দুর্ঘটনা এবং শিক্ষাগ্রহণ কাজে ব্যয়ের জন্য আবেদন করতে পারবে। তবে শিক্ষার্থীদের এ বিশেষ অনুদান দেওয়ার ক্ষেত্রে দুঃস্থ, প্রতিবন্ধী, অসহায়, রোগগ্রস্ত, গরিব, মেধাবী, অনগ্রসর সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

    এই অনুদানের আবেদনের সময়সীমা ছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। মাউশি সেই আবেদনের সময়সীমা বাড়িয়েছে আগামীকাল (৭ মার্চ) পর্যন্ত। ২৮ ফেব্রুয়ারি সময় বাড়ানোর ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বর্তমান কভিড-১৯ পরিস্থিতি বিবেচনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক কর্মচারী ও ছাত্র-ছাত্রীদের অনুদান প্রদানের লক্ষ্যে অনলাইনে আবেদনের সময়সীমা আগামী ৭ মার্চ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হলো।


    কিন্তু এদিকে মাউশির বিজ্ঞপ্তিতে অনুদানের টাকার পরিমাণ উল্লেখ না থাকলেও ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাউশি থেকে ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়ার কথা ছড়িয়ে পড়েছে। এই অনুদানের টাকা পাওয়ার জন্য করোনা পরিস্থিতিতে বন্ধ থাকা বীরগঞ্জ সকল স্কুল-কলেজে শনিবার সকাল থেকেই প্রত্যয়নপত্র নেওয়ার জন্য ভিড় করেছে হাজার হাজার শিক্ষার্থী। অনলাইনে আবেদনের নিয়ম থাকার পরও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবাইকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহের গুজব ছড়ানোর কারণেই শিক্ষার্থীরা স্ব-স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভিড় করছে বলেও অনেকেই মনে করছেন।

    বীরগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্রী মিরা জেবিন বলেন, অনলাইনে বিজ্ঞপ্তি দেখছি যে ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দিবে সরকার। বিষয়টা নিয়ে আমার কাছে সন্দেহ হচ্ছে। কারণ সরকার তো পাগল হয় নাই যে দেশের সব শিক্ষার্থীকে ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দিবে। তারপরও সবাই আবেদন করতেছে। তাই আমিও করবো। আজকে প্রত্যয়নপত্র নিতে এসেছি।

    শারমিন আক্তার নামের আরেক ছাত্রী বলেন, আমার বন্ধুরা ফেসবুকে দেখেছে যে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান দিবে আমাদের।


    দিনাজপুর জিলা স্কুল, বীরগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বীরগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়,বীরগঞ্জ সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ, সিংহজানী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, সিংহজানী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ শহরের সবগুলো স্কুল ও কলেজে প্রত্যয়নপত্র নেওয়ার জন্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভিড় ছিল। এ ছাড়া জেলার উপজেলা পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা পর্যায়েও একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।


    সরকারি জাহেদা সফির মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ শহীদুল্লাহ বলেছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি আমরা দেখেছি। সেখানে অনুদানের টাকার পরিমাণ উল্লেখ নেই এবং বেশ কিছু শর্ত দেওয়া আছে। সেই শর্ত অনুযায়ী সবাই অনুদান পাবে না। কিন্তু শিক্ষার্থীরা বলছে ১০ হাজার টাকা করে পাবে তারা। কালকে (৭ মার্চ) আবেদনের শেষ সময় হওয়ায় আজকে সবাই ভিড় করেছে। কভিড-১৯ পরিস্থিতিতে কলেজ বন্ধ থাকলেও আজকে যেভাবে শিক্ষার্থীরা ভিড় করেছে এটা সবার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তারা তো আমাদের শিক্ষার্থী। প্রত্যয়নপত্র নিতে এসেছে, আমরা প্রত্যয়নপত্র দিচ্ছি। তাদেরকে তো আমরা না করতে পারি না। এর সময়সীমা আরো বাড়ানো দরকার। একই সাথে এই অনুদান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব বন্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।



    • সর্বশেষ
    • সর্বাধিক পঠিত
    শনি
    রোব
    সোম
    মঙ্গল
    বুধ
    বৃহ
    শুক্র

    সম্পাদক: দিদারুল ইসলাম
    প্রকাশক: আজিজুর রহমান মোল্লা
    মোবাইল নাম্বার: 01711121726
    Email: bartajogot24@gmail.com & info@bartajogot24.com