মঙ্গলবার, মার্চ ২, ২০২১

Facebook Twitter Instagram Linkedin Youtube

Logo

পাঁচ বছরেই জনপ্রিয়তার শীর্ষে (ডিএইচপিএ)

আফজালুর ফেরদৌস রুমন:
প্রকাশিত : শুক্রবার, ০৫ ফেরুয়ারী, ২০২১, ০৫:৪৪
পাঁচ বছরেই জনপ্রিয়তার শীর্ষে (ডিএইচপিএ)
পাঁচ বছরেই জনপ্রিয়তার শীর্ষে (ডিএইচপিএ)

ব্যক্তিগত শখের বসে শুরু করা কাজটাই এখন একটি বিরাট সমষ্টিগত উদ্যোগে রূপান্তরিত হয়েছে। বলা হচ্ছে ঢাকা হাইফ্লাইয়ার পিজিয়ন এসোসিয়েশনের( ডিএইচপিএ) কথা। ঢাকা সহ সারা দেশেই এখন কবুতর প্রেমীদের সবচেয়ে বড় যোগসুত্র এখন এই গ্রুপটি। ঢাকায় বসবাসকারী কয়েকজন কবুতর প্রেমী একটি পিজিয়ন এসোসিয়েশন ক্লাব হিসেবে কার্যক্রম শুরু করেছিলেন ২০১৬ সালে। তাদের সেই ক্লাবের কার্যক্রম শুরু হবার সাথে সাথেই জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক পেইজ হিসেবেও যাত্রা শুরু করে। যা পরবর্তীতে আরো জনপ্রিয় হয় এবং এখন ২০২১ সালে দাঁড়িয়ে এই ক্লাবের ফেসবুক পেইজে এখন দশ হাজারের অধিক কবুতরপ্রেমীদের অভূতপূর্ব পদচারনায় মুখর।


২০১৬ সালে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম এখন একটি বিশাল পরিসরে পরিচালিত হচ্ছে। বাসার ছাদে, বা বাড়ির সামনে কবুতর লালনপালনের চিত্রটা মোটেও নতুন কিছু নয়। যারা কবুতর পালেন তারা পুরোপুরি নিজের শখের বসেই মনের খোরাক যোগাতে এটি করে থাকেন।

সময়ের সাথে সাথে সংখ্যায় যেমন কবুতর বাড়তে থাকে তেমনি বিভিন্ন জাতের কবুতর সংগ্রহ করাটাও নেশার মতোন হয়ে যায়। তবে একটা সময় পর্যন্ত এমন শখের কবুতর প্রেমীদের সংখ্যা বা আনাগোনা নির্দিষ্ট একটা জায়গার মধ্যে বিস্তৃত হলেও এখন এটির পরিমাপ বা আওতা বেশ বিশাল। নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যেতে একই চিন্তা-ভাবনা এবং মানসিকতার মানুষদের যুক্ত হবার মধ্য দিয়ে ঢাকা হাইফ্লাইয়ার পিজিয়নস এসোসিয়েশন এখন কবুতর প্রেমীদের ভরসা এবং আস্থার এক অন্য নাম।

সেই সময় প্রধান উপদেষ্টা এডিশনাল ডি আই জি শফিকুল ইসলাম যিনি তার পেশাগত জীবনের ব্যস্ততা থেকেও সময় বের করে কবুতরের প্রতি নিজের ভালোবাসার কারনে শুধুমাত্র মনের খোরাক যোগানোর জন্য বাংলাদেশের বেশিরভাগ পিজিয়ন ক্লাবের সাথে জড়িত আছেন, এবং তিনি আমাদের দেশের হাইফ্লাইয়ার পিজিয়ন সেক্টরের অভিভাবকতুল্য একজন ব্যক্তিত্ব হিসেবে সমাদৃত। তিনিই প্রথমবারের মতো সরাসরি পাকিস্তান থেকে পাকিস্তানি হাইফ্লাইয়ার কবুতর আমাদের দেশে নিয়ে এসেছিলেন। এই ঢাকা হাইফ্লাইয়ার পিজিয়ন ক্লাব প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তার অবদান অসামান্য। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মোঃ ইমরান খান যিনি বর্তমানে সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট তার সুযোগ্য নেতৃত্ব এবং উদ্যোগে ক্লাবটির ভিত্তি রচিত হয়েছিলো, এই ক্লাব শুরু করার ক্ষেত্রে তার অবদান অনস্বীকার্য এবং তৎকালীন সেক্রেটারি জনাব জুবায়েদ রশীদ যিনি বর্তমানে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বে আছেন তার ভূমিকাও অপরিহার্য। একটি নতুন ক্লাব প্রতিষ্ঠা এবং সেটি সফলভাবে পরিচালনা করার জন্য কমিটির নেয়া প্রতিটা সিদ্ধান্ত এবং সেটা সফলভাবে কার্যকর করার পেছনে তৎকালানীন সেক্রেটারি এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট জুবায়েদ রশীদের যথেষ্ট শ্রম এবং প্রচেষ্টাও প্রশংসাযোগ্য। এছাড়াও এই ক্লাবটি প্রতিষ্ঠিত করার পেছনে সেই সময়ে মীর শান, শাফিন সরদার, আসিফ করিম, মোঃ মনির, সৈয়দ আল মামুন এবং নূর আলমের ত্যাগ এবং অবদান অনস্বীকার্য।

তাদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল এই ঢাকা হাইফ্লাইয়ার পিজিয়নস এসোসিয়েশন।

এরপরে এই ক্লাবের সাথে যুক্ত হন ওস্তাদ মোঃ ইমরান খান। দুবাই প্রবাসী ওস্তাদ মোঃ ইমরান খানের অর্ন্তভুক্তি এই ক্লাবটিকে আরো গতিশীলতা এনে দিয়েছে। উল্লেখ্য ওস্তাদ মোঃ ইমরান খানও দেশে-বিদেশে বেশ কয়েকটি পিজিয়ন ক্লাবের সাথে জড়িত এবং দেশ-বিদেশে তার বেশকিছু সাগরেদ রয়েছে। যারা বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় ভালো স্কোর লাভ করে নিজেদের দক্ষতা এবং সাফল্যের প্রমাণ রেখেছে। কাছাকাছি সময়ে এই এসোসিয়েশনে যুক্ত হন বর্তমানে বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে এডিশনাল এসপি জনাব, আসাদুজ্জামান রুবেল। যিনি বেশকিছু এই রকমের ক্লাবের সাথে জড়িত আছেন এবং দেশের বিভিন্ন টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করে গৌরবের সাথে সবগুলোতেই সফলতার ছাপ রেখেছেন এবং তার ছত্রছায়ায় কবুতর প্রেমী বেশকিছু তরুণ সাফল্যের দেখা পেয়েছেন। তার অংশগ্রহণ ঢাকা হাইফ্লাইয়ার পিজিয়নস এসোসিয়েশনকে আরো সমৃদ্ধ করেছে। এই দুজনের অন্তর্ভূক্তি ঢাকা হাইফ্লাইয়ার পিজিয়নস এসোসিয়েশন কে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনায় ক্ষেত্রে সফল এবং তাৎপর্যময় সহায়ক হিসেবে ভূমিকা রেখেছে।

আরো পড়ুন: নিষ্ঠুর সকাল এতিম করলো ৩ বছরের আফরাকে

একই সময়ে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক শাহীন খান, বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট শফিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল ইসলাম সানী এবং তৎকালীন প্রচার সম্পাদক মোঃ ফজলুল করীম যিনি বর্তমানে সহ সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তাদের কর্ম দক্ষতা, এই এসোসিয়েশনের প্রতি ভালোবাসা এবং সর্বোপরি এই ক্লাবের যাত্রাপথ আরো সুন্দর এবং তাৎপর্যপূর্ণ করার জন্য নিরলস প্রচেষ্টা খুব অল্প সময়েই দেশের অন্যতম সফল একটি পিজিয়নস ক্লাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

ঢাকা হাইফ্লাইয়ার পিজিয়ন এসোসিয়েশনে ইসি মেম্বার হিসেবে বর্তমানে ২০ জন সদস্য আছেন। ২০২০-২০২২ পর্যন্ত কার্যনির্বাহী টিমে বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে আছেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জনাব শফিকুল ইসলাম। এডিশনাল এসপি আসাদুজ্জামান রুবেল, ওস্তাদ মোঃ ইমরান খাঁন। সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন জুবায়েদ রশীদ, সহ- সভাপতি হিসেবে আছেন মোঃ ইমরান খান এবং শফিকুল ইসলাম। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে আছেন শাহীন খাঁন এবং সহ সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মোঃ ফজলুল করীম এবং মোঃ জনি আহম্মেদ তাদের দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও আজিজুল সানি আছেন সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে। সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে আছেন হাবিবুর রহমান। প্রিন্স সোহেল রানা হীরা আছেন অর্থ সম্পাদক হিসেবে, সহ অর্থ সম্পাদক হিসেবে আছেন ওমর ফারুক শোভন।

ইসরাফিল আহম্মেদ ইচ্ছু দপ্তর সম্পাদক, নাজমুল হাসান সহ দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে আছেন৷ মামুনুর রশীদ ক্রিড়া সম্পাদক এবং মোঃ সোহেল রানা সহ ক্রিড়া সম্পাদক হিসেবে আছেন। প্রচার সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন তন্ময় শান, সহ প্রচার সম্পাদক হিসেবে আছেন তুষার হোসেন। এবং কার্যকরী সদস্য হিসেবে আছেন মোঃ রনী। এদের সবার চেষ্টা, ভালোবাসা এবং পরিশ্রমের ফল হিসেবে ঢাকা হাইফ্লাইয়ার পিজিয়নস এসোসিয়েশনের কার্যক্রম আরো গতিশীলতা লাভ করেছে দিনকে দিন।

২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ঢাকা হাইফ্লাইয়ার পিজিয়নস এসোসিয়েশন প্রতি বছর গ্রীস্মকালীন এবং শীতকালীন দুটি টূর্নামেন্টের আয়োজন করে আসছে। ২০১৯ সালে এটি ঢাকার গন্ডি পেরিয়ে তিনটি বিভাগের মধ্যে একটি থ্রিডি টুর্নামেন্টের সফল আয়োজন করে। ঢাকা, সিলেট এবং চট্রগ্রাম বিভাগের মধ্যকার এই আয়োজন ঢাকা হাইফ্লাইয়ার পিজিয়নস এসোসিয়েশনের সাফল্যের মুকুটে একটি পালক যুক্ত করে। ২০১৯ সালের এই টুর্নামেন্টের বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়ার উদ্দেশ্য একটি বড় আকারে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিলো। প্রায় দেড় শতাধিক অতিথিদের উপস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিলো।

ঢাকার ঐতিহ্যবাহী খাবার কাচ্চি বিরিয়ানি, বিভিন্ন রকল মজাদার পিঠা, টাঙ্গাইলের প্রসিদ্ধ চমচম ছিলো অনুষ্ঠানের খাদ্য তালিকায়। এছাড়া আমন্ত্রিত প্রত্যেক অতিথিকে ফুল এবং শীতকালে অনুষ্ঠিত হবার কারণে সুদৃশ্য মাফলার উপহার হিসেবে প্রদান করা হয়। প্রথম পুরস্কার একটি মোটরসাইকেল, দ্বিতীয় পুরস্কার একটি ফ্রিজ এবং তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে একটি স্মার্টটিভি প্রদান করা হয়েছিলো। তিন বিভাগের এই টুর্নামেন্টে প্রথম পুরস্কার লাভ করেছিলেন ঢাকা হাইফ্লাইয়ার পিজিয়নস এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহীন খান। এটি অবশ্যই ঢাকা হাইফ্লাইয়ার পিজিয়নস এসোসিয়েশনের জন্য একটি আনন্দ এবং গৌরবের মূহুর্ত নিয়ে এসেছিলো। এরপরেও তিনি বিভিন্ন টুর্নামেন্টে সাফল্যের ধারা অব্যাহত রেখেছিলেন। এখানে আরেকটি বিষয় উল্লেখ না করলেই নয় যে, পুরস্কার হিসেবে যে ট্রফিটি প্রদান করা হয়েছিলো সেটি চায়না থেকে বিশেষ ভাবে অর্ডার দিয়ে বানিয়ে আনা হয়েছিলো। এবং এটি দেশের হাইফ্লাইয়ার পিজিয়ন এসোসিয়েশন গুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় ট্রফি হিসেবে গণ্য করা হয়।

আরো পড়ুন: চায়ের সাথে যা খেতে মানা

২০২০ সালে করোনা পরিস্থিতির কারণে টুর্নামেন্ট সীমিত আকারে আয়োজন করা হলেও বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে ২০২১ সালের জানুয়ারিতে।

ঢাকার অভিজাত এলাকা ধানমন্ডিতে স্বনামধন্য রেস্টুরেন্ট বাফেট লাউঞ্জে সদস্য এবং অতিথি সব মিলিয়ে প্রায় দেড় শতাধিক মানুষের আগমন ঘটেছিলো। আগের চেয়েও বড় এবং জমকালো এই আয়োজন অনুষ্ঠানে আসা প্রত্যকের কাছেই প্রশংসা পেয়েছে। দেশের হাইফ্লাইয়ার পিজিয়ন এসোসিয়েশনের ইতিহাসে এবারই প্রথমবার এতো বিশাল আয়োজনে পুরস্কার বিতরণ এবং ৭০টির বেশি আইটেম নিয়ে বাফেট ডিনারের আয়োজন করা হয়েছিলো। এবারেও প্রতিটি অতিথিকে ফুলের মালা, দৃষ্টিনন্দন মাফলার এবং লোগো সম্বলিত ব্যাজ উপহার দেয়া হয়েছে।

দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে এই ঢাকা হাইফ্লাইয়ার পিজিয়নস এসোসিয়েশনের সুনাম এবং কার্যক্রম এখন ভারত, নেপাল এবং দুবাইতেও ছড়িয়েছে। কলকাতায় ওয়েষ্ট বেঙ্গল পিজিয়ন ক্লাবের আয়োজনে ওয়ার্ল্ড পিজিয়ন ডে এবং তাদের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিলো আমাদের দেশের ঢাকা হাইফ্লাইয়ার পিজিয়নস এসোসিয়েশনকে। ওয়েষ্ট বেঙ্গল পিজিয়ন ক্লাবের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট উল্লাস মন্ডল এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট বাপ্পীর আমন্ত্রণে ঢাকা হাইফ্লাইয়ার পিজিয়নস এসোসিয়েশনের তরফ থেকে প্রেসিডেন্ট জুবায়েদ রশীদ এবং সহ সাধারণ সম্পাদক জনাব ফজলুল করিম এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের হাইফ্লাইয়ার পিজিয়ন ওস্তাদদের উপস্থিতিতে ওয়েষ্ট বেঙ্গল পিজিয়ন ক্লাব তাদের আয়োজিত সেই অনুষ্ঠানে ঢাকা হাইফ্লাইয়ার পিজিয়নস এসোসিয়েশনকে ক্রেস্ট এবং সম্মাননা জানিয়েছিলো সেদিন। ঢাকা হাইফ্লাইয়ার পিজিয়নস এসোসিয়েশন ও পিছিয়ে ছিলোনা, এই এসোসিয়েশনের তরফ থেকে জুবায়েদ রশীদ এবং ফজলুল করিম ওয়েষ্ট বেঙ্গল পিজিয়ন ক্লাব সহ প্রখ্যাত ওস্তাদ সারওয়ান. সিং ক্লার, ওস্তাদ জেমস লুইস, ওস্তাদ লনী আকরাম এবং ওস্তাদ নবাব কাদেরকে ক্রেস্ট, লোগো সম্বলিত টি-শার্ট উপহার এবং সম্মাননা প্রদান করা হয়েছিলো।

এবং কলকাতার সেই অনুষ্ঠানে ঢাকা হাইফ্লাইয়ার পিজিয়নস এসোসিয়েশনের তরফ থেকে জুবায়েদ রশীদ একই মঞ্চে উপস্থিত থেকে দেশের জন্য সুনাম নিয়ে এসেছিলো। সবকিছু ঠিক থাকলে খুব শিগগিরই বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যকার একটি ফ্রেন্ডশিপ টুর্নামেন্ট আয়োজন করার কথা রয়েছে। ঢাকা হাইফ্লাইয়ার পিজিয়নস এসোসিয়েশন এবং ওয়েষ্ট বেঙ্গল পিজিয়ন ক্লাবের তত্ত্বাবধানে দুইদেশের মধ্যকার কবুতর প্রেমীদের সাথে নিয়ে মাইলফলক গড়তে যাচ্ছে তারা তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।

ঢাকা হাইফ্লাইয়ার পিজিয়নস এসোসিয়েশনের বিশেষ উপদেষ্টা ওস্তাদ মোঃ ইমরান খান দুবাইয়ের কিছু স্বনামধন্য হাইফ্লাইয়ার পিজিয়ন ক্লাবের সাথে ঢাকা হাইফ্লাইয়ার পিজিয়ন ক্লাবের মধ্যকার ফ্রেন্ডশীপ টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য নানাবিধ পদক্ষেপ নিয়েছেন। এটি সংঘটিত হলে দেশের হাইফ্লাইয়ার জগতে একটি বিশাল পরিবর্তন নিয়ে আসা সম্ভব হবে বলেই আশা করা হচ্ছে। যা বাংলাদেশের হাইফ্লায়ার ক্লাবের জন্য সম্মানের সুবাতাস নিয়ে আসবে।

নেপাল ন্যাশনাল ফ্লায়িং পিজিয়ন এসোসিয়েশনের আমন্ত্রণে ২০২০ সালে ঢাকা হাইফ্লাইয়ার পিজিয়নস এসোসিয়েশন এর পক্ষ থেকে সহ সাধারণ সম্পাদক জনাব ফজলুল করীম নেপালে অনুষ্ঠিত একটি আয়োজনে উপস্থিত হয়েছিলেন। নেপালের এই বনাঢ্য সরকারী আয়োজনে ঢাকা হাইফ্লাইয়ার পিজিয়নস এসোসিয়েশনকে সম্মাননা জানায় নেপাল ন্যাশনাল ফ্লায়িং পিজিয়ন এসোসিয়েশন। ঢাকা হাইফ্লাইয়ার পিজিয়নস এসোসিয়েশন ও নেপালের এই এসোসিয়েশনকে ক্রেস্ট প্রদান এবং সম্মাননা জানিয়েছিলো।

ভিনদেশ হতে পাওয়া এই সম্মাননা স্বাভাবিকভাবেই ঢাকা হাইফ্লাইয়ার পিজিয়নস এসোসিয়েশনের সদস্যদের মনোবল যেমন বাড়িয়েছে তেমনি ভবিষ্যতে আরো ভালো কিছু করার ইচ্ছাটাকেও প্রসারিত করেছে। বাংলাদেশের সাথে বিভিন্ন দেশের এরকম হাইফ্লাইয়ার পিজিয়ন টুর্নামেন্ট আয়োজনের উদ্যোগ এবারই প্রথম। ভবিষ্যতে দুবাই, ভারত, এবং নেপালের সাথেও এরকম বিভিন্ন টুর্নামেন্টের সফল আয়োজন করে বাংলাদেশের নাম আরো উজ্জ্বল করার লক্ষ্যে একনিষ্ঠ ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন এই ক্লাবের সদস্যগন।

আগামী মার্চ থেকেই ঢাকা হাইফ্লাইয়ার পিজিয়নস এসোসিয়েশনের তত্ত্বাবধানে শুরু হতে যাচ্ছে ‘বাংলাদেশ কাপ-২০২১’। সেই উপলক্ষে এখন শেষ সময়ের প্রস্তুতি চলছে বেশ জোড়েসোরেই। আন্তর্জাতিক মান এবং নিয়মকানুন মেনেই এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হচ্ছে আমাদের দেশে এই প্রথমবারের মতো। এই টুর্নামেন্টে দেশের প্রায় সব পিজিয়ন ক্লাবের সংশ্লিষ্টতার লক্ষ্যে সর্বনিম্ন এন্ট্রি ফি এবং মিনিমাম পর্যবেক্ষক ফি রাখার জন্য সবার্ত্নক চেষ্টা করা হচ্ছে। ঢাকা হাইফ্লাইয়ার পিজিয়নস এসোসিয়েশনের ইসি মেম্বারগণ বিভিন্ন টুর্নামেন্টে সফলভাবে সম্মানজনক স্কোর লাভ করে এই এসোসিয়েশনের মুখ যেমন উজ্জ্বল করছে সামনের সময়েও এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলেই আশা করছেন এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকলে। আগামী মার্চের ১ তারিখ থেকে শুরু হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্ট চলছে সেপ্টেম্বরের ৩০ তারিখ পর্যন্ত।

সারাদেশ থেকেই প্রতিযোগীরা অংশগ্রহণ করবে এই বিশাল আয়োজনে এবং টুর্নামেন্ট শেষে জমকালো আয়োজনে বড় পরিসরে অনুষ্ঠান আয়োজন করে পুরস্কার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হবে।

এই উপলক্ষে ইতিমধ্যে সারাদেশের প্রায় ৪০টি পিজিয়ন ক্লাবকে ঢাকা হাইফ্লাইয়ার পিজিয়নস এসোসিয়েশনের তরফ থেকে সুদৃশ্য সম্মাননা ক্রেস্ট, লোগো সম্বলিত ব্যাগ, পর্যবেক্ষকদের জন্য একই লোগো সম্বলিত জার্সি, রেজাল্ট শীট এবং স্ট্যাম্প ও দুই রকম সিল প্রদান করা হয়েছে। আরো কিছু পিজিয়ন ক্লাবকে এই টুর্নামেন্টের আওতায় আনার প্রচেষ্টা বর্তমানে চলছে। সারাদেশের এই ক্লাবগুলোর সংশ্লিষ্টতায় ‘বাংলাদেশ কাপ-২০২১' একটি বিশাল পরিসরের টুর্নামেন্ট হিসেবে আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন ক্লাবটির প্রেসিডেন্ট জনাব জুবায়েদ রশীদ। তিনি আরো বলেন- ‘সামনে নিজেদের এই ক্লাবটি নিয়ে আরো অনেক ভিন্নধর্মী এবং সুপরিকল্পিত প্ল্যান রয়েছে ঢাকা হাইফ্লাইয়ার পিজিয়নস এসোসিয়েশনের। আগামীতে দেশে বিদেশে হাইফ্লাইয়ার পিজিয়ন ক্লাব হিসেবে ঢাকা হাইফ্লাইয়ার পিজিয়নস ক্লাবকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় ক্লাব যেসব আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড মেইনটেইন করে সেই রকম ভাবেই এই ক্লাবের বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নেয়া হচ্ছে, যাতে শিগগিরই দেশের এই হাইফ্লাইয়ার ক্লাবটি সেই মান এবং স্ট্যান্ডার্ডে পৌছাতে পারে। বিশেষ করে বাংলাদেশের হাইফ্লাইয়ার ক্লাবের লিষ্টে শীর্ষস্থানে সুনামের সাথে এই ক্লাবকে প্রতিষ্ঠা করাই এখন তাদের মূল লক্ষ্য।’

দেশের সবচেয়ে বড় হাইফ্লাইয়ার পিজিয়ন ক্লাব হিসেবে অধিষ্ঠিত হবার লক্ষ্যে সামনের যাত্রা আরো সুন্দর এবং তাৎপর্যময় হবে যা দেশে বিদেশে আমাদের দেশের সুনাম এবং মর্যাদা আরো বাড়াবে এই কামনা রইলো।

বার্তাজগৎ২৪ / এম এ


আরো পড়ুন:



পা‌য়ে বাঁশ বেঁধে খুঁড়ি‌য়ে হাঁট‌ছে ছোট্ট শিশু হা‌বিবা


প্রকাশিত: মঙ্গলবার, মার্চ ২, ২০২১, ০২:০৪
পায়ে বাঁশ বেঁধে হাঁটছে হাবিবা

জীবনে যে বসয়ে হাবিবার দৌড়ঝাঁপ করে বাড়ির উঠান মাতিয়ে রাখার কথা ছিল, অথচ সেই বয়সে তাকে হাটতে হচ্ছে পায়ে বাঁশ বেঁধে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। তিন বছর বয়স থেকেই পায়ে বাঁশ বেঁধে কষ্ট করে হাটছে হাবিবা নামের এই শিশুটি। বলছিলাম কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার ৬ বছরের শিশু হাবিবার কথা৷

এক‌টি দুর্ঘটনা থা‌মি‌য়ে দি‌য়ে‌ছে শিশু‌টির জীব‌নের গ‌তি। শিশুটির যথাযথ চিকিৎসা করাতে না পেরেও পরিবারের কষ্টের শেষ নেই। তা‌কে নি‌য়ে চরম হতাশায় প‌রিবার। এমনকি সামান্য কিছু টাকার অভা‌বে কৃ‌ত্রিম পা লাগা‌তে পার‌ছেন না বাবা-মা।

জানা যায়, কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার বাদলা ইউনিয়নের বাদলা গ্রামের নুরুল আমিনের মে‌য়ে হা‌বিবা। বাবা রিকসা চা‌লি‌য়ে প‌রিবা‌রের ভরন‌পোষণ চালান।

হাবিবার বয়স তখন তিন বছর। নানীর সাথে সিএনজি চালিত অটোরিকশায় চড়ে কিশোরগঞ্জ যাচ্ছিল। এ সময় সড়ক দুর্ঘটনায় হাবিবার এক পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সেই থে‌কে শুরু কষ্টের জীবনের সাথে হাবিবার জীবনে নতুন এক কষ্টের যোগ হয়। হাবিবার বাম পায়ের সঙ্গী যেন এক চিল‌তে বাঁশ।

স্বাভাবিকভাবে চলতে শিশু হাবিবার এক‌টি কৃত্রিম পা দরকার। খুব বে‌শি টাকার ব্যাপার না। ৩০ থে‌কে ৪০ হাজার টাকা। কিন্তু হা‌বিবার প‌রিবা‌রের কা‌ছে এটাই অ‌নেক বড় বোঝা। ত‌বে বাবা-মা স্বপ্ন দে‌খেন তা‌দের প্রিয় সন্তা‌নের পা‌শে কেউ না কেউ দাঁড়া‌বে। আবার ‌কিছুটা স্বাভা‌বিকভা‌বে হাঁট‌বে  ৬ বছ‌রের এক মাত্র সন্তান হা‌বিবা।

শিশু হাবিবা জানায়, বাঁশ বেঁ‌ধে হাঁটতে তার অনেক কষ্ট হয়। সবার মন চায় হাঁট‌তে, খেল‌তে। স্কু‌লে যাই‌তে। ত‌বে পা‌রিনা। 

হাবিবার বাবা নুরুল আমিন জানান, রিকশা চা‌লি‌য়ে কোনম‌তে সংসার চালাই। মে‌য়ের চি‌কিৎসার টাকা পা‌বো কেম‌নে। ‌মে‌য়ের চি‌কিৎসা ও এক‌টি পা লাগা‌তে পার‌লে মে‌য়েটা একটু শা‌ন্তি পেত।

ইটনা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অতিশ দাস রাজীব জানান, আজ সোমবার (১ মার্চ) শিশু হাবিবাকে নি‌য়ে হাসপাতা‌লে এস‌েছিল মে‌য়ে‌টির বাবা। তার পায়ের অবস্থা দেখে‌ছি। মে‌য়ে‌টির জন্য সম্ভাব্য সব ধর‌নের সহ‌যো‌গিতা দেয়া হ‌বে হাসপাতাল থে‌কে। 

তি‌নি জানান, হা‌বিবার পা‌য়ের বাঁশ খু‌লে আপাতত প্লাস্টি‌কের এক‌টি শেল্টার লা‌গি‌য়ে দেয়া হ‌চ্ছে। কৃ‌ত্রিম পা লাগা‌নোর বিষ‌য়ে ঢাকা মে‌ডি‌কেলসহ বি‌শেষজ্ঞ‌দের সাথে যোগা‌যোগ কর‌ছি। সূত্র: সময় সংবাদ




আমাকে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে: সামিয়া রহমান

বার্তাজগৎ২৪ ডেস্ক:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, মার্চ ২, ২০২১, ০১:৩২
সামিয়া রহমানের সংবাদ সম্মেলন

একাডেমিক গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির ঘটনায় শাস্তি হিসেবে পদাবনতি হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক সামিয়া রহমান বলেছেন, অ্যালেক্স মার্টিন নামে যার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আমাকে পদাবনতি দেওয়া হয়েছে, সেই নামে কেউ নেই। তিনি বলেন, তাকে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি ন্যায়বিচার পাননি। এ বিষয়টি নিয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের কাছে ও উচ্চ আদালতে যাবেন।

গতকাল (১ মার্চ) সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় সামিয়া রহমান বলেন, যে অভিযোগে শাস্তি দেওয়া হয়েছে, যার পরিচয় (শিকাগো ইউনিভার্সিটির জার্নাল ‘ক্রিটিক্যাল ইনকোয়ারি’র অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যালেক্স মার্টিন পরিচয়ধারী) দিয়ে ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো প্রেস থেকে চিঠি এসেছে, সেই অ্যালেক্স মার্টিন বলেই তো ওই জার্নালে কেউ নেই এবং তারা এ ধরনের চিঠি পাঠায়নি। শিকাগো জার্নালের এডিটর নিজে এটি স্বীকার করেছেন।

এ বিষয়ে তিনি জার্নালের সম্পাদকের সঙ্গে তার নিজের একটি মেসেঞ্জার কনভারসেশনের স্ক্রিনশট সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের দেন।

তিনি দাবি করেন, যে লেখাটির জন্য তিনি অভিযুক্ত, সেটি তিনি লিখেননি, কোথাও পাবলিশ হওয়ার জন্য জমা দেননি। তিনি আরেকজন অভিযুক্ত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শাস্তি পাওয়া ক্রিমিনোলজি বিভাগের প্রভাষক সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজানকে দোষারোপ করেন। তিনি বলেন, বিষয়টি মারজান নিজেও ট্রাইবুনালের কাছে স্বীকার করেছে। তবুও আমাকে কেন শাস্তির আওতায় আনা হলো? এটি ষড়যন্ত্র।

সামিয়া রহমান বলেন, ‘লেখাটি যে আমার নয়, সেটি জানিয়ে তৎকালীন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিনের কাছে লেখাটি প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছিলাম ২০১৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি। ডিনের সেটি সিন্ডিকেটে তোলার কথা ছিল, কিন্তু তিনি কেন তুলেননি? বরং সাত মাস ঝুলিয়ে রেখে ২০১৭ সালে উপাচার্য আরেফিন স্যারকে ভিসির পদ থেকে সরানোর দুদিন পর তিনি বলেন, এবার তিনি বিষয়টি সিন্ডিকেটে তুলবেন। শিকাগো জার্নাল থেকে চিঠি এসেছে।’

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘এটি কয়েকবছর আগের বিষয়। এখন এতকিছু মনে নেই। তা ছাড়া, তদন্ত কমিটিও আমাকে ডাকেনি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার নিজস্ব নিয়মে এগিয়েছে। তদন্ত কমিটি হয়েছে, সিন্ডিকেটে গেছে, আমি আমার কাজ যথাযথভাবে সবসময় করে এসেছি। এখন এ বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই।’

সামিয়া রহমান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যে প্লেইজারিজমের অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে আনা হয়েছে, সেটির সঙ্গে জড়িত থাকার দালিলিক প্রমাণ ট্রাইব্যুনাল পর্যন্ত দিতে পারেনি। ট্রাইবুনালের সুপারিশ মওকুফ কমাতে পারে সিন্ডিকেট। কিন্তু যে অভিযোগের প্রমাণ তারা পায়নি, সেটা কীভাবে বাড়িয়ে শাস্তির মুখোমুখি করে?

তিনি বলেন, ‘ঘটনাটা প্রথম জানতে পারি ২০১৬ সালের নভেম্বরের শেষ দিকে আমেরিকা যাওয়ার সময় বিমানবন্দরে বসে। ডিন অফিসের প্রথম ফোনের মাধ্যমে জানানো হয়, আমার আর মারজানের নামে একটি লেখার হার্ডকপি ও সফটকপি নাকি ডিন অফিস হারিয়ে ফেলেছে। একইসঙ্গে একটা লেখার হার্ড ও সফটকপি কীভাবে হারায়? সবচেয়ে বড় কথা, তাদের আমি জানাই আমি কোনো লেখা জমা দেইনি। তারা বারবার বলে মারজান একটি লেখা জমা দিয়েছিল। আমি মারজানকে তাৎক্ষণিকভাবে ফোন দিলে সে জানায়, ২০১৫ সালে তাকে দেওয়া অনেক আইডিয়ার মধ্য থেকে একটি লেখা সে লিখে জমা দেয়, আবার রিভিউয়ার নাকি সেটি গ্রহণও করেছেন। আমি তাকে বকাবকি করি, আমাকে না দেখিয়ে জমা দেওয়ার জন্য। সে বলে রিভিউয়ারও নাকি অ্যাকসেপ্ট করে ফেলেছে। আমি খুব অবাক হই, আমাকে না দেখিয়ে ডিন অফিস কেন লেখাটি প্রসিড করলো। মারজানকে আমি আমেরিকা থেকে ফিরে না আসা পর্যন্ত লেখাটি স্থগিত রাখতে বলি। কিন্তু আমি আমেরিকায় থাকা অবস্থায়ই লেখাটি পাবলিশড হয়ে যায়, আমি জানতে পর্যন্ত পারিনি।’

সামিয়া রহমান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আমি বিভিন্ন সময় নানা ধরনের আইডিয়া দিয়েছি। আর্থিক সাহায্য চাইলে সাহায্য করেছি। চাকরি চাইলে চাকরি দিয়েছি। মারজানকেও আমি বিভিন্ন সময় আইডিয়া দিয়েছিলাম। কিছু কাজও করেছিলাম আগে। তবে, বিতর্কিত প্রবন্ধটি আমাকে না জানিয়ে, না দেখিয়ে আমার নির্দেশনা অমান্য করে মারজান বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পাদকীয় বোর্ডে জমা দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কোনো ধরনের লেখা প্রকাশের আগে সম্পাদকীয় বোর্ড সভা করে সেটি প্রকাশের যোগ্য কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। ২০১৭ সালের আগের দু-তিন বছর এ ধরনের কোনো বোর্ডই বসেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা লেখা যে কেউ চাইলেই ছাপাতে পারেন না। প্রথমে সেটা ডিন অফিসে স্বাক্ষর করে জমা দিতে হয় হার্ড ও সফট কপিসহ, তারপর সেটা যায় এডিটরিয়াল বোর্ডের কাছে, তারপর রিভিউয়ারের কাছে। রিভিউয়ার যদি কোনো মেজর বা মাইনর সংশোধনের কথা বলেন বা বাতিল করেন, সেটা যায় এডিটরিয়াল বোর্ডের কাছে। তারপর অথর সংশোধন করতে দেওয়া হয়। অথর সংশোধনের পর আবার সেটি যায় এডিটরিয়াল বোর্ডের কাছে। যদি তারা ছাপার যোগ্য মনে করেন, তবে প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, তদন্ত কমিটি যেখানে এডিটোরিয়াল বোর্ডের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার কথা বলেছে, সেখানে তাদের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি?

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ, হাইকোর্টের আইনজীবী তুরিন আফরোজ প্রমুখ।

এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, “এটা সিন্ডিকেট সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা মানুষের বাক স্বাধীনতা ও মর্যাদায় বিশ্বাসী।”

তবে অভিযোগের বিষয়ে তিনি আর কোনো ব্যাখ্যা দিতে রাজি হননি।





ফিচার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
Logo

সম্পাদক: দিদারুল ইসলাম
প্রকাশক: আজিজুর রহমান মোল্লা
মোবাইল নাম্বার: 01711121726
Email: bartajogot24@gmail.com & info@bartajogot24.com