১৭ই মে ইতিহাসের স্বরুপে ফেরার দিন

বার্তাজগৎ২৪/ এমএ
বার্তাজগৎ২৪ ডেস্ক : বার্তাজগৎ২৪ ডেস্ক :
প্রকাশিত: ১:৪১ পূর্বাহ্ন, ১৭ মে ২০২২ | আপডেট: ৫:২৭ অপরাহ্ন, ১৯ অগাস্ট ২০২২
শেখ রফিকুন্নবি সাথী

১৯৮১ সালের ১৩-১৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ইডেন হোটেলে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে বিদেশে অবস্থানরত বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা কে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টে পরিবারের সকলকে হারিয়ে ছয় বছর প্রবাসে কাটানোর পর বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা যেদিন ফিরে এলেন, সেদিন ছিল রোববার। ১৭ই মে ১৯৮১ সাল। অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন তার লেখা 'রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার পথচলা' শীর্ষক গ্রন্থে  সেই দিনটির বর্ণনা করতে গিয়ে বিভিন্ন পত্রিকার খবরের বরাত দিয়েছেন।

'শেখ হাসিনার দেশে ফেরা' শিরোনামের চ্যাপ্টারে তিনি ১৮ই মে ১৯৮১ তে প্রকাশিত  'বাংলাদেশ অবজারভার' পত্রিকার প্রথম পাতার রিপোর্টের কিছু অংশ তুলে ধরেন,যা ছিল নিম্নরুপ "পুলিশের বেষ্টনী অতিক্রম করে বহু মানুষ বিমানবন্দরের টারমাকে প্রবেশ করে ... এরপর আসে কাঙ্ক্ষিত সে বিমানটি। ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি বোয়িং। 'জয় বাংলা' 'জয় বঙ্গবন্ধু' ও শেখ হাসিনাকে 'শুভেচ্ছা স্বাগতম' জানানো গগনবিদারী শ্লোগানে প্রকম্পিত গোটা বিমানবন্দর।''

ঝড় ও মুষলধারে বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রিয় নেত্রীর জন্য অপেক্ষা করা, বৃষ্টিতে ভিজে দীর্ঘপথ অতিক্রম করা লক্ষ লক্ষ জনতাকে উদ্দেশ্য করে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেছিলেন: "আমি নেতা নই, সাধারণ মেয়ে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ প্রতিষ্ঠার একজন কর্মী, আপনাদের কাছ থেকে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়িত করার জন্য আপনাদের নিয়ে নিরলস সংগ্রাম করে যাবো।"

সংগ্রাম তিনি করেছেন এবং এখনো করে চলছেন। এই সংগ্রাম করতে গিয়ে বার বার  মৃত্যুর মুখে পড়েছেন। কিন্তু দমে যাননি। আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়েই  শেখ হাসিনা দলের নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন। রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হয়ে দেশের বিভিন্ন সেক্টরের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে খাদ্য নিরাপত্তা,বিদ্যুৎ উৎপাদন, সমুদ্র বিজয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য খাতের অগ্রগতি, নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক উন্নতি ইত্যাদি ক্ষেত্রে ঈর্ষণীয় সাফল্য এসেছে। সুদক্ষ নেতৃত্বের মাধ্যমে বিশ্বের মোড়ল দেশগুলো বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও চীনের সাথে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করে উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছেন।

মামলা, হামলা নির্যাতনের মুখোমুখি হবেন তা জেনেই দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছিলেন। এ প্রসঙ্গে প্রয়াত পরমাণু বিজ্ঞানী  ডঃ এম এ ওয়াজেদ মিয়ার লেখা বই 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ঘিরে কিছু ঘটনা ও বাংলাদেশ 'থেকে কিছু লাইন উল্লেখ করা যেতে পারে। ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফেরা প্রসঙ্গে স্বামী ডঃ এম এ ওয়াজেদ মিয়াকে বলছেন "ইতিমধ্যে পাকিস্তানপন্থী এবং জিয়ার রাজনৈতিক দলেরা সারা বাংলাদেশে লিফলেট, হ্যান্ডবিল ইত্যাদি বিলি করে আমার ঢাকা ফেরা যেকোনভাবেই প্রতিরোধ করার ডাক দিয়েছে। আমার মনে হয় জয়-পুতলিকে সঙ্গে নিয়ে আমার ঢাকায় ফেরা সমীচীন হবে না।"

বঙ্গবন্ধু কে হত্যার পর ঘাতক দল বসে ছিলোনা। আওয়ামী লীগ কে নেতৃত্ব শূন্য করতে পরবর্তীতে জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়। শুরু হয় অত্যাচার নির্যাতন। অধ্যাপক আবু সাঈদ তার রচিত 'জেনারেল জিয়ার রাজত্ব' গ্রন্থে উল্লেখ করেন, "গ্রাম বাংলার তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে সংগঠনের কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী দের নির্বিচারে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়।৬২ হাজার নেতা-কর্মীকে ৭৫-৭৬ সনের মধ্যেই গ্রেফতার করা হয়। অনেককে হত্যা করা হয়। গুম করা হয় লাশ।" শুধু আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নির্যাতন হত্যায় সীমাবদ্ধ ছিলোনা। বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে দেয়া এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও মূল্যবোধ বিকৃতির জন্য সকল চেষ্টা করেছে ৭৫ পরবর্তী জিয়াউর রহমানের সরকার।

অধ্যাপক আবু সাঈদ তার গ্রন্থে লিখেছেন " জিয়াউর রহমানের সবচেয়ে উদ্ধতপূর্ণ পদক্ষেপ ছিলো ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা দিবস 'জাতীয় দিবস' হিসেবে পালিত হবে। এই ঘোষণার মাধ্যমে জিয়াউর রহমান ১৯৭১ সনের ২৬শে মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কর্তৃক স্বাধীনতার ঘোষণা, ঐ ঘোষণার প্রেক্ষিতে ১৯৭১ সনের ১৭ই এপ্রিল মুজিবনগরে ঐতিহাসিক স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র এবং সর্বোপরি বাংলাদেশের স্বাধীনতার আইনানুগ ভিত্তিতে কুঠারাঘাত করতে চেয়েছেন। সমগ্র দেশে আন্দোলন শুরু হয়।আওয়ামী লীগের আহবানে সারা দেশে হরতাল পালিত হয়।মুক্তিযুদ্ধের সকল শক্তি ও পক্ষের মধ্যে এর বিরুপ প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করে জিয়াউর রহমান তার পূর্ব সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নিয়ে ২৬শে মার্চকে স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস হিসেবে পুনরায় ঘোষণা করতে বাধ্য হন"।

বঙ্গবন্ধুকে মুছে ফেলার সমস্ত চেষ্টা করা হয়। জাতির জনকের কবরে ছিল চব্বিশ ঘণ্টা সশস্ত্র পাহারা এবং কেউ কাছে যেতে পারতো না। তাছাড়া বত্রিশ নম্বর বাড়ি ছিল তালাবদ্ধ। বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়া কিংবা দাড়ানো ছিল নিষিদ্ধ।

১৯৭৭ সালের একুশের ভোরে বাংলা একাডেমীতে কবিতা পাঠের অনুষ্ঠানে কবি নির্মলেন্দু গুণ সর্বপ্রথম জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম উচ্চারণ করার দু:সাহস দেখান। তার সেই বিখ্যাত কবিতা "আমি আজ কারো রক্ত চাইতে আসিনি।”। ফলশ্রুতিতে তাকে গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং নজরদারির মুখোমুখি হতে হয়েছিল।
বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে দেয়ার ষড়যন্ত্র প্রসঙ্গে অধ্যাপক আবু সাঈদ 'জেনারেল জিয়ার রাজত্ব' গ্রন্থে লিখেছেন, "বলাবাহুল্য আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র ও দলিলাদিতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম উল্লেখিত ছিলো। জিয়ার সামরিক সরকার সামরিক ফরমান জারী করে নাম এর উপর নিষেধাজ্ঞা জারী করে। নিবন্ধিত হতে জমা দেয়া আওয়ামী লীগের দলিলাদি সরকারি তরফ হতে ফেরত পাঠানো হয় এই বলে যে, আওয়ামী লীগের দাখিলকৃত দলিলপত্রে বক্তব্য ১৯৭৬ সালের রাজনৈতিক দলবিধির (১০)নং ধারার সংগে অসংগতিপূর্ণ। আইন, বিচার ও সংসদ মন্ত্রণালয় হতে পাঠানো চিঠি তে বলা হয় "The very word 'Bangabandhu' should be omitted" বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিয়োগ কৃত জাতীয় অধ্যাপক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শিক্ষাবিদ আবুল ফজল যিনি পরবর্তীতে জিয়াউর রহমানের শিক্ষা উপদেষ্টা হয়েছিলেন, তিনি আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বেগম সাজেদা চৌধুরী কে সচিবালয়ে ডেকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু ও চার নীতি বাদ দিতে। প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় আবুল ফজল সাজেদা চৌধুরী কে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন "এ জন্যই তো জিয়া তোমাকে দেখতে পারে না"। পরবর্তীতে কৌশলগত কারণে বঙ্গবন্ধুর নাম বাদ দিয়েই দলিলাদি দাখিল করা হয় এবং ৪ঠা নভেম্বর তারিখে আওয়ামী লীগকে অনুমোদন প্রদান করা হয়। দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে তৎকালীন নেতৃবৃন্দের চেষ্টা যেমন ছিল, তেমনি ছিল অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র। সামরিক সরকারের আঘাত এবং অন্যান্য সমস্যার জন্য আওয়ামী লীগের মধ্যে যে ছন্দপতন হয়েছিল সেই ছন্দ ফিরে এসেছিল শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে। জননেত্রীর ফিরে আসার মধ্য দিয়ে নেতাকর্মীরা উৎসাহ যেমন পেয়েছিলেন একইভাবে  অনেকটাই নেতৃত্বহীন থাকা তৃণমূলের কর্মীরা পেয়েছিলেন নেতৃত্ব, যে নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখে ঐক্যবদ্ধ হওয়া যায়। কারণ বঙ্গবন্ধুর কন্যা তো ঐক্যের প্রতীক! ৭৫এর নির্মম হত্যাকাণ্ড এবং রাষ্ট্রক্ষমতা পরিবর্তনের পর লোভে সামরিক শাসকের সহযোগী হয়ে সংবিধান ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যারা নিজেদের সম্পৃক্ত করেছিলেন তাদের একটা বড় অংশই ছিল এক সময়কার প্রগতিশীল রাজনীতিবিদ। যদি জীবনের ঝুকি নিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশে না ফিরে আসতেন তাহলে বাংলাদেশের রাজনীতি যেভাবে দক্ষিণপন্থীদের হাতে চলে যাচ্ছিল তা প্রতিরোধ করা সম্ভব ছিলোনা।

একটি দেশের প্রজন্ম থেকে প্রজন্মকে দেশাত্মবোধে উদ্যোমী করে তোলার জন্য সে দেশের গৌরবময় সংগ্রামের ইতিহাস, নেতা ও নেতৃত্বের সঠিক ইতিহাস গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। এই ইতিহাস সে দেশের সম্পদ। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হচ্ছে ৭৫ এর পর স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমান, হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ এবং বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে সেই গৌরবময় ইতিহাস কে আড়াল করা, বিকৃত করার কাজ চলেছে। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আমাদের জাতীয় বীরদের অবজ্ঞা করার একটা উদাহরণ পাওয়া যায় ১৯৭৯ সালের ৫ই এপ্রিলের সংসদ কার্যবিবরণীতে।এইদিনই সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী র মাধ্যমে কুখ্যাত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশকে সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। সেদিনের সংসদের কার্যবিবরণীতে দেখা যায় সাংসদ মিজানুর রহমান চৌধুরী তার বক্তব্যে বলছেন, "আমাদের দুর্ভাগ্য যে, স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় যিনি অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন, যিনি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, যিনি অর্থমন্ত্রী ছিলেন, যিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন তাদের নামে একটা শোক প্রস্তাব উত্থাপনের মত উদারতা আপনারা দেখাতে পারেননি।"

জননেত্রী র স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হচ্ছে, তার দেশে ফেরা এবং রাজনীতির হাল ধরার মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে মুক্তিযুদ্ধের পরিচালনার দায়িত্বে থাকা জাতীয় চার নেতা এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানার পথ সুগম হয়েছে এবং আমাদের জাতির গৌরবের সকল বিষয় রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযোগ্য মর্যাদা পেয়েছে। ১৯৮১ সালের ১৭ই মে তে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিনটিকে 'ইতিহাসের স্বরুপে ফিরে আসার দিন' বললে অত্যুক্তি হবেনা।

স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ দেখলেই বোঝা যায় শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন কেন তাৎপর্যপূর্ণ।
জীবনের বারো বছর যে মানুষটা আমাদের অধিকার আদায়ের জন্য কারাগারে কাটিয়ে দিয়েছেন কিন্তু নিজের রাজনৈতিক দর্শন থেকে এক মূহুর্তের জন্য সরে না দাড়িয়ে গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন, সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অবিসংবাদিত নেতা হয়েছিলেন এবং প্রতিষ্ঠা করেছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের, সেই মহান মানুষকে সপরিবারে হত্যার পর কুখ্যাত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে বিচারের পথ বন্ধ করে দেয় ৭৫ পরবর্তী সরকার। এই ঘটনা ছিল আমাদের জাতীয় জীবনের সবচেয়ে কলংক জনক অধ্যায়। বিচারের পথ বন্ধ করেই ক্ষান্ত ছিলনা, খুনিদের কে রাষ্ট্রীয় ভাবে এবং রাজনৈতিক ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল জিয়া, এরশাদ ও খালেদা জিয়ার সরকার। ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করে সেই কলংক মোচন সম্ভব হয়েছে কারণ জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে রাজনীতির হাল ধরেছিলেন এবং পরবর্তীতে জনগণের ভোটে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসীন হয়েছিলেন।

৭৫ এর ১৫ই আগষ্টের পর ক্ষমতা দখল করা সামরিক সরকার এবং ক্যান্টনমেন্টে জন্ম নেয়া রাজনৈতিক দলগুলোর কেউই তাদের শাসনামলে ১৯৭১ এ আমাদের পূর্বসূরিদের সাথে ঘটে যাওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করার তাগিদ অনুভব করেনি। বরং তাদের সকল চেষ্টা ছিল স্বাধীনতা বিরোধীদের প্রতিষ্ঠিত করা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ৭১ এর মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করে ইতিহাসের দায় থেকে আমাদের মুক্ত করেছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা।

একরাতে পরিবারের সবাইকে হারানো একজন মানুষ সব কষ্ট চাপা দিয়ে ঘুরে দাড়িয়েছিলেন দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য। ১৯৮১ সালের ১৭ মে রাজনীতিবিদ হিসাবে জননেত্রী র স্বদেশ প্রত্যাবর্তন যেন এক আলোর অভিযাত্রার আখ্যান। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের এই দিনে তাঁর প্রতি অফুরন্ত শুভকামনা।

শেখ রফিকুন্নবি সাথী
সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটি।

ইমেইল – [email protected]

বার্তাজগৎ২৪/ এমএ