ঝিলমিল ঝিলমিল করে রে ময়ূরপঙ্খী নায়

বার্তাজগৎ২৪/ এমএ
বার্তাজগৎ২৪ ডেস্ক : বার্তাজগৎ২৪ ডেস্ক :
প্রকাশিত: ৭:৪৪ অপরাহ্ন, ১৭ জুন ২০২২ | আপডেট: ১২:৫৪ অপরাহ্ন, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২

একজন রাজার তার রাজ্য পরিচালনার জন্য যত প্রকার সৎ গুণ থাকা প্রয়োজন তার মধ্যে সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ হচ্ছে তার ধৈর্য এবং সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সাহস। আর এই দুই গুণ আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার শিরায় জেনেটিক্যালি প্রবাহিত কারণ তিনি বঙ্গবন্ধু কন্যা।

সময়ের নিবচ্ছিন্নতায় তিনি তার এই গুণ সমূহকে আরো শাণিত করেছেন এবং আমাদের এই পদ্মা সেতু হচ্ছে তার সেই অমোঘ ধৈর্য এবং সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তের সর্বোত্তম নিদর্শন।

প্রকৃতির শক্তির মধ্যে যত প্রকার বৃহৎ শক্তি রয়েছে তার মধ্যে পানি একটি আর খরশ্রোতার দিক দিয়ে পৃথিবীতে আমাজনের পরেই পদ্মার অবস্থান তবে আমাজন নদীতে কোন সেতু নেই। আর পদ্মার মত এমন একটি নদীকে বসে এনে তার সাথে সখ্যতা তৈরি করে একটি সেতু তৈরি করা কোন মামলি বিষয় নয়, আর সেই সাহস আমাদের জননেত্রী শেখ হাসিনা দেখিয়েছেন।

বিশ্বের একমাত্র রাজনীতিবিদ তিনি যিনি বিশ্ব ব্যাংককেই স্বয়ং প্রশ্নের সম্মুখে দাড় করিয়েছেন এবং বিশ্ব ব্যাংক নিজেই ভেতর থেকে হয়তো অনুশোচনায় দগ্ধ  কারণ কিছু ভুল মানুষের অপব্যক্ষার কারণে নিজেরাই এত বড় অর্জন থেকে বঞ্চিত।

আসলে কিছু বিষয় সাময়িক ভাবে ক্ষতিকর মনে হলেও একটা সময় সেটা হয়ে ওঠে ঔষধির  মতোই দৈবিক। তেমনি বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে  পদ্মা সেতু তৈরি হলে সেখানে বাংলার মানুষের এই ত্যাগ এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই অসামান্য অবদান ফ্যাকাসে হয়ে যেত। আজ আমরা গর্ব করে বলতে পারি এই পদ্মা সেতু বঙ্গবন্ধু কন্যা বাংলার মানুষকে উপহার দিয়েছেন।

"এ পদ্মা সেতু আমাদের এবং একান্তই আমাদের"

কিছু গোষ্ঠী আছে যারা সব সময় শেখ হাসিনার উন্নয়নকে রুখে দিতে চায়, প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়, মানুষকে ভুল ব্যখ্যা দিয়ে পথভ্রষ্ট করতে চায়।মানুষ আজ খুব ভালোভাবেই উপলব্ধি করে কারা এই বাঙ্গালির উন্নতি চায় আর কারা অবনতি।নযারা এই বাংলার মানুষকে সর্বক্ষেত্রে পেছনে টেনে ধরে বিশ্বের বুকে দাস করে রাখতে চায় , তাদের আর কখনোই এই বাংলার আপামর জনগণ সেই সুযোগ দিবে না। কারণ পদ্মা সেতুর মত একটি মুক্তির কারণকে যারা রুদ্ধ করে দিতে চেয়েছিল তারা কত নিচু, কত যঘণ্য মানসিকতার তা এই বাংলার মানুষের কাছে আজ পূর্ণিমার চাদেঁর মত পরিস্কার।

এখন মানুষ শেখ হাসিনাকে বিশ্বাস করে আর যারা একবার শেখ হাসিনাকে বিশ্বাস করে ফেলে তাদের আর অন্য কাউকে বিশ্বাস করার সুযোগ নেই। কারণ বাঙ্গালি যে বিশ্বাস বঙ্গবন্ধু কন্যার উপরে করেছে সে বিশ্বাস ও আস্থার মর্যাদা তিনি একাগ্রচিত্তে ধারণ ও লালন করেছেন। আর তার হাজার প্রমাণের ভেতর একটি হচ্ছে আমাদের এই পদ্মা সেতু।

পদ্মা সেতুকে কখনোই আমার শুধুমাত্র ইট বালু সিমেন্টের মিশ্রণ বলে মনে হয়নি। পদ্মা সেতুকে আমার ডিজিটাল বাংলাদেশের ভারসাম্যের  প্রতীক বলে মনে হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য যে ভারসাম্য টুকু দরকার ছিল সেটাই আমাদের পদ্মা সেতু।

বঙ্গবন্ধুকে যদি বাংলার বহমান নদীর সাথে তুলনা করা হয় তাহলে আমরা কান পাতলেই শুনতে পাবো তার বুকের তাজা রক্তের বয়ে চলার শব্দ। তিনি তার বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে এদেশের  মানুষের স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা করেছেন। বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর হৃদয়ের গভীরের না বলা সেই শব্দ উনুধাবন করে তার কন্যা গড়ে তুলেছেন স্বপ্নের পদ্মা সেতু। এ যেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর মনের কোনে লালিত স্বপ্নের বাস্তবায়ন ।

স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের সকল চক্রান্ত উপেক্ষা করে বঙ্গবন্ধুর সেই দাবায়ে রাখতে না পারার অমৃত বাণীকে ধারণ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বের বুকে এক অন্যন্য নজীর স্থাপন করেছেন। আর সেই দৃষ্টান্তের নাম হচ্ছে পদ্মা সেতু।

পদ্মা সেতুতে প্রথম যেদিন আলোর ঝলকানিতে ঝিলমিল করে উঠলো সেই রাতে পদ্মার  বুকে এক জেলে জাল ফেলতে ফেলতে আপন মনে আনন্দে গান গেয়ে উঠলো....

"কোন মেস্তরি নাও বানাইলো এমন দেখা যায়
ঝিলমিল ঝিলমিল করে রে ময়ূরপঙ্খী নায় ।

চন্দ্র-সূর্য বান্ধা আছে নাওয়েরই আগায়
দূরবীনে দেখিয়া পথ মাঝি-মাল্লায় বায়,
ঝিলমিল ঝিলমিল করে রে ময়ূরপঙ্খী নায়, "

আর এভাবেই আমাদের ফিনিক্স পাখি নানা প্রতিকূলতাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে দক্ষ নাবিক এর ন্যায় গড়ে তুলেছেন পদ্মা সেতু নামক অমর উপাখ্যান।

লেখক: কাজী বনফুল

বার্তাজগৎ২৪/ এমএ