হাওয়া সিনেমায় সিনেমাটিক রিয়েলিটি তৈরি ও পাখির দৃশ্য ধারণ নিয়ে যা বললেন পরিচালক

বার্তাজগৎ২৪/ এমএ
বার্তাজগৎ২৪ ডেস্ক : বার্তাজগৎ২৪ ডেস্ক :
প্রকাশিত: ১১:৩০ অপরাহ্ন, ১৮ অগাস্ট ২০২২ | আপডেট: ৫:১২ পূর্বাহ্ন, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২
হাওয়া সিমেনার পোস্টার

হাওয়া চলচ্চিত্রের পরিচালক মেজবাউর রহমান সুমন হাওয়া সিনেমাতে শালিক পাখিটির দৃশ্য ধারণ নিয়ে একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন তার ফেইসবুক পেইজে। সেখানে তিনি জানিয়েছেন, সিনেমাটিক রিয়েলিটি তৈরি করতে যা করা হয়েছে সেটা সত্য নয় এবং পাখিটা প্রকৃতিতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি লেখেন, পাঁচ বছর আগে আমার ব্যান্ড মেঘদল এর জন্য নির্মাণ করেছিলাম 'এসো আমার শহরে'। সেখানে এই নেক্রপলিস সিটিতে কিছু প্রতীকি বন্যপ্রাণীকে দেখিয়েছিলাম। ওদের  শহরের ভেতর নানা জায়গায় দেখা গিয়েছিলো। কিন্তু এই মৃত নগরে মানুষহীন রাস্তাঘাটে বন্যপ্রাণী কেন ঘুরে বেড়াচ্ছে! তার উদ্দেশ্যই বা কি? আমি মনে করেছিলাম, এই নগর শুধু মানুষের নয়, অন্য প্রাণীর জন্যও আবাসস্থল হওয়ার কথা ছিলো।

 

প্রতিদিন এই শহরে অসংখ্য প্রাণীদের আমরা নিয়ে আসি শুধুমাত্র ভোগের জন্য। হয়তো মানুষের জীবনধারণের জন্য সেটা আমাদের করতেও হয়। কিন্তু মায়া তো নিঃশেষ হবার নয়। এই সর্বপ্রাণের মায়াই ওই মিউজিক ভিডিওতে দেখাতে চেয়েছিলাম। কিছু দিন আগেও 'কোথায় পালাবে বলো রূপবান' নামে  ওটিটি প্লাটফর্ম চরকির জন্য একটি ছোট ছবি নির্মাণ করি। সেখানে চিড়িয়াখানা থেকে একটি বাঘ পালিয়ে যায়। তাকে কর্তৃপক্ষ খাঁচায় বন্দি করতে চায়। পাশাপাশি এক নারীকেও বন্দি করতে চায় সমাজের কিছু চোখ। সে যাই হোক, আমার পূর্বের এই দুইটি কাজের ভেতর দিয়ে বলতে চেয়েছি,  প্রাণ ও প্রকৃতি নিয়ে আমার গল্প বলা নতুন নয়। বরং এই কাজ গুলোতে সর্বপ্রাণের দায় সবসময়ই ছিলো।

নির্মাতা হিসাবে আমি এটুকুই বলতে চাই, হাওয়া’র পাখিটি রূপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে আর এই নির্মাণের জন্য যে সিনেমাটিক রিয়্যালিটি তৈরি করতে হয়েছে সেটা সত্য নয়। ছবির শুরুতে ডিসক্লেইমার-এ আমরা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছি। পাখিটির দৃশ্য ধারণের পর আমরা তাকে প্রকৃতিতে মুক্ত করে দিয়েছিলাম। আর নৌকায় যে উড়িয়ে দেওয়ার দৃশ্য দেখিয়েছি সেটা কম্পিউটার গ্রাফিক্সের মাধ্যমে নির্মান করা। আর চান মাঝি যে তার প্রিয় পাখিটিকে খেয়ে ফেলে সেটা কি শুধু ভোগ? নাকি সমাজের ভেতর জমতে থাকা হিংস্রতা? আর আমি শুধু ঐ বোধটাকেই ইঙ্গিত করেছি, আর সেটা নির্মাণ করেছি সিনেমার ভাষার ভেতর দিয়ে।

পৃথিবী সর্বপ্রাণের হোক।

বার্তাজগৎ২৪/ এমএ