রুপনা চাকমার বাড়ি তৈরি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক

বার্তাজগৎ২৪/কেএইচ
দিদারুল ইসলাম: দিদারুল ইসলাম:
প্রকাশিত: ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২ | আপডেট: ৬:৪৮ পূর্বাহ্ন, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২
বার্তাজগৎ২৪

সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপা জয়ের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি আলোচনার কেন্দ্র হয়ে দাঁড়িয়েছে দলে খেলা রাঙ্গামাটির ফুটবলার গোল রক্ষক রুপনা চাকমার ভাঙ্গা কুঁড়েঘর নিয়ে। ইতিমধ্যে দেশের কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক থেকে শুরু করে দেশের অনেক স্বনামধন্য ব্যক্তিরা মন্তব্য করেছেন, যে মেয়েটি দেশের হয়ে লড়াই করেছেন, দেশের সুনাম বয়ে এনেছেন তার বাড়ি কিনা এরকম! যেটা আমাদের জন্য লজ্জার এবং অপমানের।

বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়লে, সবার আগে রূপনা চাকমার পরিবারকে সাহায্য করতে ছুটে গেলেন রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। তিনি এসময় রুপনা চাকমার পরিবারকে দেড় লাখ টাকার পুরস্কার তুলে দেন।

জেলা প্রশাসক মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলায় রুপনা চাকমার বাসায় ও পরে একই জেলার আরেক ফুটবলার কাউখালী উপজেলার ঋতুপর্ণা চাকমার বাসায় গিয়ে ও সমপরিমাণ অর্থ তুলে দেন ।

রুপনা চাকমার বাড়িতে যাওয়ার সময় জেলা প্রশাসক দেখতে পান তার গ্রামের মানুষ একটি ভাঙ্গা সেতু দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হয়! তখন তিনি রুকনা চাকমার গ্রামে যাতায়াতের একটি ব্রিজ ও তাদের পরিবারের জন্য একটি ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

এসময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সঙ্গে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ-সভাপতি বরুণ দেওয়ান, জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক নিরুপা দেওয়ানসহ আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে দক্ষিণ এশিয়ার সেরা গোলকিপার হয়েছেন রাঙ্গামাটির নানিয়ারচরের মেয়ে রুপনা চাকমা। অন্যদিকে, বাংলাদেশ নারী ফুটবল টিমের আরেক সেরা খেলোয়ার রিতুপর্ণা চাকমা ও রাঙামাটির কাউখালি উপজেলার মেয়ে।

জেলা প্রশাসক রুপনা চাকমার বাড়িতে গিয়ে নগদ অর্থ দেওয়ার পাশাপাশি বাড়িও ব্রিজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় আনন্দিত হয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে রূপনা চাকমা। তিনি তার ফেসবুক পেইজে, রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক ও দেশের গণমাধ্যম কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।

অন্যদিকে, রাঙামাটির এই দুই নারী ফুটবল তারকাকে নিয়ে আনন্দ-উল্লাসে ভাসছে পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির মানুষ। তারা রাঙ্গামাটি পৌঁছালে জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে বলেও জানান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।

তিনি বলেন, এ ফুটবল খেলোয়াররা আজ দেশের নাম সারাবিশ্বের কাছে পরিচিত করেছে। আমাদের রাঙ্গামাটির গর্ব তারা। তাদের মতো আরও অনেক খেলোয়াড় যেন এ পার্বত্য জেলা থেকে গড়ে উঠতে পারে সেদিকে নজর দেবো। তাদের পরিবারের সীমাবদ্ধতা আমরা দেখে গেলাম, এ বিষয়ে তাদের পরিবারকে সুযোগ সুবিধা বাড়িয়ে দিতে কাজ করবো।

বার্তাজগৎ২৪/কেএইচ