দিনাজপুর খানসামায় গল্প ও খেলার ছলে পাঠদান, ক্লাসের দেয়ালই যেন বই!

বার্তাজগৎ২৪/ এমএ
এনামুল মবিন (সবুজ), দিনাজপুর : এনামুল মবিন (সবুজ), দিনাজপুর :
প্রকাশিত: ২:৩৬ অপরাহ্ন, ১৮ অগাস্ট ২০২২ | আপডেট: ৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২
গল্প ও খেলার ছলে পাঠদান

আম্মা বলে পড়রে সোনা, আব্বা বলেন মন দে,পাঠে আমার মন বসে না, কাঁঠালচাঁপার গন্ধে।’ কবি আল মাহমুদ ‘পাখির মতো’ কবিতায় শিশু শিক্ষার্থীদের মনের কথা এভাবেই তুলে ধরেছেন। শিশুদের চঞ্চল মন যে পড়ায় বসতে চায় না, সে কথাই বর্ণনা করেছেন তিনি। এ কারণে শিশু শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়াতে গল্প ও খেলার ছলেই পাঠদানের উদ্যোগ নিয়েছে দিনাজপুর খানসামা উপজেলার পাকেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

পাকেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের মূল ভবনের সামনে ফুলের বাগান বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষে রয়েছে বাংলা ও ইংরেজিতে লেখা রঙিন বর্ণ, নামতা, গণিতের চিহ্ন, বাংলা ও ইংরেজি মাসের নাম, বিজ্ঞানের বিভিন্ন আবিষ্কারের ছবি, বঙ্গবন্ধুর ছবি, সাতজন বীরশ্রেষ্ঠর নাম, বিভিন্ন ফুল-ফল ও পশু-পাখির ছবি এবং ছড়া।

এছাড়াও মূল ভবনের সামনে-পেছনে আছে মনীষীদের বাণী ও সচেতনতামূলক বিভিন্ন লেখা। শ্রেণিকক্ষে আরও রয়েছে বিভিন্ন খেলার উপকরণ। এতে শিশুরা খেলার ছলে পড়ায় আগ্রহী হয়ে উঠছে। ছড়া, কবিতা ও গল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্য ছবি দিয়ে সাজানো বিদ্যালয় দেখে শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়তই নতুন নতুন কিছু শিখছে।

মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে পাঠদান ছাড়াও সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, জুতা পায়ে টয়লেটে যাওয়াসহ সচেতনতামূলক বিভিন্ন ভিডিও দেখানো হচ্ছে। এতে শিশুশিক্ষার্থীদের আচরণে আসছে ইতিবাচক পরিবর্তন। মানসিক বিকাশের সঙ্গে পড়াশোনায় তারা সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে চলছে। পাঠদান পদ্ধতিতে পরিবর্তন প্রচলিত নিয়মের বাহিরে আনন্দ মুখর পরিবেশে গল্প আর খেলার ছলে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানোর কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা প্রশংসা কুড়াচ্ছেন অভিভাবক, শিক্ষা বিভাগ, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টদের।


প্রাক-প্রাথমিকের শ্রেণি শিক্ষক ইয়াসমিন আরা বলেন, শ্রেণিকক্ষের দেয়ালের লেখা, ছড়া, চিত্রাঙ্কন ও খেলনার মাধ্যমে সহজেই শিক্ষার্থীরা শিখছে আর লেখাপড়ায় প্রতি আগ্রহী হচ্ছে।

অভিভাবক শাহরিয়া সরকার বলেন, বিদ্যালয়ের দেয়াল যেন পাঠ্যবই। এটি প্রশংসার দাবিদার। কেননা শিশুরা খেলার ছলে যা শিখছে, তার ফল ইতিবাচক।

পাকেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, পড়াশোনার প্রতি মনোযোগ ও আগ্রহ বৃদ্ধিতে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা বিভাগ এবং সরকারি সহায়তায় দেয়াল সাজানোর উদ্যোগ নেয়া হয়। এসব দেখে নতুন বিষয় শিখতে ও জানতে আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে শিশুশিক্ষার্থীদের। এতে বিদ্যালয়ে যেমন উপস্থিতি শতভাগ তেমনি পরবর্তী ক্লাসে এ শিক্ষা কার্যকর ও প্রশংসনীয়।

উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার অনুপম ঘোষ জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় আনন্দঘন পরিবেশে শিশুদের পাঠদান দিতে প্রথম পর্যায়ে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিকক্ষ সাজানো হয়েছে। পাকেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চমকপ্রদ এই পাঠদান পদ্ধতি সত্যিই প্রশংসনীয়। যা থেকে উপজেলার প্রায় প্রতিটি স্কুলে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ছুটির দিন গুলো বাদে প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ক্লাস চলে। আর প্রাক-প্রাথমিকে শিক্ষার্থী অন্তত ৫০ জন।

বার্তাজগৎ২৪/ এমএ