হিরো আলম আমাদের লজ্জাও না অহংকারও না

বার্তাজগৎ২৪/কেএইচ
দিদারুল ইসলাম: দিদারুল ইসলাম:
প্রকাশিত: ৬:৩১ অপরাহ্ন, ২৮ জুলাই ২০২২ | আপডেট: ৬:৩১ অপরাহ্ন, ২৮ জুলাই ২০২২
ফাইল ছবি

বাবা-মায়ের একটা সন্তান প্রতিবন্ধী থাকলে তাকে মানুষের সামনে দেখানো যেমন লজ্জার না, হিরো আলমও তেমনিভাবে আমাদের জন্য লজ্জার না। তাকে তার জায়গায় ফেলে রাখাটাই সম্মানের, তাকে আটকে রাখা এবং ঢেকে রাখা অসভ্যতা। আপনি তার ভিডিও দেখবেন নাকি দেখবেন না সেটা আপনার পছন্দ। কিন্তু তার কণ্ঠ চেপে ধরা অন্যায়। আপনি নিজেকে সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা করেন দাবি করে এমন অসভ্য এবং বর্বর কাজ করতে পারেন না। সে আপনাদের মতো গুণী কোন শিল্পী নয়, সে কোনদিন একুশে পদক কিংবা বাংলা একাডেমি পুরস্কার নিতে আসবেনা। তাকে তার মতো মানুষেরাই ভালবাসবে, তার চেয়ে উঁচু এবং নিচু দুই শ্রেণীর মানুষেরাই তাঁর পেইজে তামাশা দেখতে যায়। সেই তামাশা দেখতে যাওয়াটাই তার জন্য সাপে বর হয়েছে।

অনলাইন মাধ্যমে তার একটা বিরাট অবস্থান তৈরি করিয়ে দিয়েছে। ডলার উপার্জনের মাধ্যমে রুটি রুজির ব্যবস্থা করে দিয়েছে। সেটা কারো ইচ্ছাই হোক কিংবা অনিচ্ছাই হোক। ছেলেটি একটা নেশার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে, সে যা কিছু করছে সবকিছু নেশার ঘোরে করছে। অর্থনৈতিক নিরাপত্তা তাকে দাঁড়িয়ে থাকার একটা শক্ত ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছে। এই অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা এবং দাঁড়িয়ে থাকার ভিত্তি অনেক প্রতিষ্ঠিত শিল্পীদের নেই। সেই কারণে তিনি হিংসা এবং রোষানলে পড়ার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন।

অনেকেই বলেন বিদেশীরা আমাদেরকে হিরো আলমের সংস্কৃতি চর্চার ধরণ দেখিয়ে কটাক্ষ করে, তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই সেই সব বিদেশীরা মূর্খ এবং অসভ্য। আমরা কখনো পার্শ্ববর্তী দেশের নাগরিকদের রানু মণ্ডলের কার্যকলাপ দেখিয়ে দিয়ে ট্রল করিনা। ভারতের মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রির কোন খ্যাতিমান তারকাদের সঙ্গে তার তুলনা করি না। যারা আমাদের দেশের তারকাদের হিরো আলমের সঙ্গে তুলনা করে, আমাদের দেশীয় সাংবাদিকদের হিরো আলমের তথ্য জানতে চেয়ে লজ্জা দেয় তারাও অসভ্য।

এই মুহূর্তে হিরো আলমের কন্ঠ চেপে ধরে তাকে যোগ্যতা অনুযায়ী ১৫ হাজার টাকা দামের একটা সরকারি চাকরি দিলেও সেটা সে করবে না। মানুষের ভালোবাসায় হোক কিংবা অনিচ্ছায় হোক সে অনলাইন থেকে যে পরিমাণ অর্থ উপার্জনের সুযোগ পেয়েছে তা অনেকটা সচিবের মাসিক উপার্জনের চেয়েও বেশি। এই উপার্জন বন্ধ হয়ে গেলে সে আত্মহত্যা করতে পারে, মারা যেতে পারে। তাকে তার মতো স্বাধীন ভাবে বাঁচতে দিন।

দেশে যদি বিচার হয় তাহলে তার অনুসারীদের, রিয়েক্টকারীদের, কমেন্টকারীদের,  সাবস্ক্রাইবারকারীদের বিচার হওয়া উচিত।

মু.দিদারুল ইসলাম
লেখক ও সাংবাদিক 

বার্তাজগৎ২৪/কেএইচ