সাগরে মাছ ধরার ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে আজ

বার্তাজগৎ২৪/ এমএ
দিদারুল ইসলাম: দিদারুল ইসলাম:
প্রকাশিত: ৩:২০ অপরাহ্ন, ২০ মে ২০২২ | আপডেট: ২:৩৭ পূর্বাহ্ন, ২৯ জুন ২০২২
ছবি: দিদারুল ইসলাম

দেশের মৎস্য শিল্পকে সমৃদ্ধ করতে মাছের প্রজনন এবং বৃদ্ধি সহায়তায় প্রতিবছরই সাগরের মাছ শিকারে দেওয়া হয় নিষেধাজ্ঞা। বরাবরের মতো এবারও সেই নিষেধাজ্ঞা শুরু হতে যাচ্ছে ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত। মৎস্য সংরক্ষণ এবং বাঁধাহীন প্রজননের জন্য এই  নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে মৎস্য বিভাগ।

যৌক্তিক কারণে এই নিষেধাজ্ঞা দেয়া হলেও এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় উপকূলের দিনমজুর জেলেদের। শুধু মাত্র মৎস্য শিকারকে কেন্দ্র করে যাদের জীবিকা নির্বাহ হয় তাদের কাটাতে হয় মানবেতর জীবন।

সরকারিভাবে নিষেধাজ্ঞার কারণে গভীর সমুদ্র থেকে বৃহস্পতিবার (২৯ মে) রাতের মধ্যেই অধিকাংশ মাছ ধরার ট্রলার চট্টগ্রামের বিভিন্ন ঘাটে চলে এসেছে।এসব ট্রলারে করে জেলেরা দীর্ঘদিন ধরে মাছ শিকারের পর বাড়ি ফিরেছেন।

ট্রলার ও বোট মালিকরা অনেকেই এই নিষেধাজ্ঞার সময়কে কাজে লাগিয়ে ট্রলার ও বোট মেরামত করবেন। তবে অনেকের দাবি বছরজুড়ে ইলিশের আকাল থাকার পাশাপাশি অন্যান্য মাছ শিকারেও তাদের লক্ষ্য মাত্রার ধারেকাছেও যেতে পারেনি। এতে করে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে অনেক জেলে ও ট্রলার মালিকদের। নিষেধাজ্ঞা নিয়ে হতাশ হয়েছেন জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা।

এবারেও সরকারিভাবে নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ের মধ্যে নিবন্ধিত জেলেদের প্রত্যেককে ৮৬ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা জানিয়েছে মৎস্য বিভাগ। তবে এই নিবন্ধিত জেলেদের চেয়েও অনিবন্ধিত জেলেদের সংখ্যা অনেক বেশি। তাই ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে উঠতে তাদের খুব বেশি সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে।

কর্ণফুলী নদীতে ফিরে আসা 'আল্লাহর দান' নামের এক বোটের মাঝি জানান, মাত্র কিছুদিন আগেই তারা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ করে মাছ ধরতে গিয়েছিল কিন্তু এরমধ্যে তারা লাভের মুখ দেখেনি। এখন পুনরায় ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা তাদের পথে বসাবে। তার দাবি নিবন্ধিত জেলের তালিকা আরও বাড়ানো উচিত। ৬৫ দিনে তাদের কোনো উপার্জন হবেনা, বেকার হয়ে থাকতে হবে তাদের সবাইকে। অন্য কোন কাজের বিষয়ে অভিজ্ঞতা না থাকায় তাদের কেউ কাজ দেবে না।

নগরীর ফিশারি ঘাট এলাকার কাদের মাঝি বার্তা জগৎ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, নিষেধাজ্ঞার সময়ে আমরা ঘরে বসে থাকলেও ভারতের জেলেরা বসে নেই। তারা ঢুকে পড়ে আমাদের দেশের জল সীমানায়। শুধু আমাদের নিষেধাজ্ঞা দিয়ে লাভ নাই নিজেদের সীমানা নিরাপদ রাখতে সরকারকে আরও সচেতন হতে হবে। নিষেধাজ্ঞার সময়ে আমাদের চেয়ে ভারতীয় জেলেদের আরও বেশি করে দমন করে রাখতে হবে। অন্যতায় নিষেধাজ্ঞার কোন সুফল পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না। উল্টো আমাদের অসংখ্য পরিবারকে পথে বসানো হবে

জেলেদের প্রণোদনা বাড়ানোসহ নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে গভীর সাগরে প্রশাসনের টহল বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে জেলে ও মাছ ব্যবসায়ীরা।

আরও পড়ুন : চাঁদপুরে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা দিতে এসে নিহত ২
মৎস্য বিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ের মধ্যে কর্মহীন নিবন্ধিত জেলেদের প্রত্যেককে দুই ধাপে ৮৬ কেজি করে চাল দেওয়া হবে।

বার্তাজগৎ২৪/ এমএ