নেত্রকোনায় বন্যায় ভেসে গেছে ২ কোটি ৭৫ লাখ টাকার মাছ

বার্তাজগৎ২৪/কেএইচ
বার্তাজগৎ২৪ ডেস্ক: বার্তাজগৎ২৪ ডেস্ক:
প্রকাশিত: ১২:৩৬ অপরাহ্ন, ২৩ জুন ২০২২ | আপডেট: ৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, ২৮ জুন ২০২২
ফাইল ছবি

নেত্রকোনার বারহাট্টায় বন্যার পানিতে ২ কোটি ৭৫ লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে বলে খামারিদের দাবি। ৭ ইউনিয়নের সাড়ে ৩ হাজার পুকুরের মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে বারহাট্টায় বন্যার সৃষ্টি হয়। উপজেলার সাতটি ইউনিয়নই বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়। কংস, ধনাইখালী, বিশনাই ও গুমাই নদীর প্রবল স্রোতে রায়পুর, সিংধা, সাহতা, বাউসি ও আসমা ইউনিয়ন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২ হাজার ৬৭২টি পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছে।

বারহাট্টা উপজেলা মৎস্য ও কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৬ হাজার ৫২৩টি পুকুরের মধ্যে ৩ হাজার ৬৮৭টি পুকুর পানিতে সম্পূর্ণ ডুবে গেছে। অন্যদিকে, উপজেলার ২২ হেক্টর জমির আমন ধান, ২৭ হেক্টর জমির সবজি ও ২৪ হেক্টর জমির পাটক্ষেত বন্যায় ডুবে গেছে।

উপজেলার বাউসি ইউনিয়নের সুমন মিয়া বলেন, ‘আমাদের বাপ-চাচারা অনেক বছর ধরেই মাছের চাষ করছেন। এবারের বন্যায় আমাদের প্রায় ৮ লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে। অথচ মাছ বিক্রি করে আমাদের ঋণের টাকা পরিশোধ করার কথা ছিল। বন্যা সেটি হতে দিল না। ঋণের টাকা কীভাবে পরিশোধ করব, সেটি এখন বুঝতে পারছি না।

বারহাট্টার কুমারপাড়া গ্রামের মাছচাষি রসুল মোল্লা বলেন, ‘আমি বাউসি ও আসমা ইউনিয়নের হারুলিয়া ও হরিয়াতলা ফিশারির জন্য ৩০ একর জমি পাঁচ বছরের জন্য ভাড়া নিয়েছিলাম। প্রতি শতাংশ ৩৪০ টাকা করে ভাড়া দিতে হয়। আমার ফিশারির কাছে অনেক মানুষের ব্যক্তিগত পুকুর তলিয়ে গেছে। হারুলিয়া ও হরিয়াতলা এলাকায় কোনো পুকুর ঠিক নেই। আমার নিজের গ্রামের বাড়ি কুমারপাড়ায়ও চার একরের পুকুরপাড়ে এক ফুট পানি উঠে গেছে।’

মাছচাষি আরও বলেন, ‘আমার মোট ২ কোটি টাকার বেশি মাছ ভেসে গেছে। আমি এখন মূলধন হারিয়ে শূন্য হয়ে গেছি।’

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শিহাব উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, বন্যায় বারহাট্টা উপজেলার কোনো গবাদিপশু মারা না গেলেও খামারিদের অবকাঠামোগতভাবে প্রায় ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা কষ্টকর হবে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, একে পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণ, তার ওপর পানির প্রচুর স্রোত থাকায় মাছচাষিদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দ্রুতই নিরূপণ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

বার্তাজগৎ২৪/কেএইচ