৭৫ এর পর এই প্রথম আগস্টের প্রথম প্রহরের কর্মসূচিতে ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্ব অনুপস্থিত : সোহান খান

বার্তাজগৎ২৪/ এমএ
বিশেষ প্রতিনিধি: বিশেষ প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: ১০:৩৮ অপরাহ্ন, ০৪ অগাস্ট ২০২২ | আপডেট: ৮:৪৪ অপরাহ্ন, ১১ অগাস্ট ২০২২
সোহান খান

দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কমিটি বর্ধিত হয়েছে। গেল ৩১ জুলাই রাতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সাক্ষরিত বিভিন্ন প্যাডে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কমিটি বর্ধিত করা হয়। সম্প্রতি বর্ধিত হওয়া কমিটি, বর্তমান নেতৃত্ব ও আসন্ন সম্মেলনসহ নানা প্রসঙ্গে কথা বলতে বার্তাজগৎ২৪ এর মুখোমুখি হয়েছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সোহান খান।

***আপনি কেমন আছেন?

আলহামদুলিল্লাহ আমি ভালো আছি।

*** বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কমিটি বর্ধিত করার কথা দীর্ঘদিন যাবত ধরে শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত হলো, এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একটা গঠনতান্ত্রিক ফরম্যাট আছে, গঠন ডিউরেশন আছে। আমাদের দুই বছর মেয়াদে ৩০১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি। আমাদের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৮ সালের ১১-১২ মে। মাঝখানে কোভিড সিচুয়েশনের কারণে জানেন যে আমাদের দুটি বছর থমকে ছিল। সব মিলিয়ে কমিটি একটি দীর্ঘ পক্রিয়ার মধ্যে দিয়েই চলছে। 

এর মধ্যে শোভন-রব্বানীর অব্যাহতি একটি বড় ইস্যু ছিল। এরপর শোভন-রাব্বানীকে যে কারণেই অব্যবহিত দিয়েছেন সেই কারণ গুলোর উপর দাঁড়িয়ে জয়-লেখক যে চ্যালেঞ্জ নিয়ে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন। সেই চ্যালেঞ্জ তারা নিদিষ্ট গঠনতান্ত্রিক মেয়াদের ভিতর পরিপূর্ণ করতে পারেনি। আমি বলব যে, দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির বর্ধিত করণ যেটা করা উচিৎ ছিল আরও ৬ মাস কিংবা বছর খানেক আগে।

*** ৩১ জুলাই দিবাগত রাতে অর্থাৎ সন্ধ্যার পর থেকে বর্ধিত কমিটিতে স্থান পাওয়া নেতৃবৃন্দ বা তাদের অনুসারীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের দপ্তর থেকে প্রাপ্ত চিঠি পোস্ট দিচ্ছে। এ বিষয়ে আপনি কী বলবেন?

আপনি জানেন যে আগস্ট মাস আমাদের শোকের মাস। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ঘাতকেরা হত্যা করেছিল। এই আগস্ট মাসে আমাদের বঙ্গবন্ধুর কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার উপর ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা হয়েছিল। আগস্ট মাস আমাদের জাতির কাছে শুধু শোকের মাস না, আমাদের সমগ্র বাঙ্গালী জাতির হৃদয়ে এটি একটি কালো দাগ। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আগস্ট আমাদের কালো তিলক। এই আগস্টের প্রথম প্রহরে ছাত্রলীগের যে কমিটি বর্ধিত করণ এটা আমি দুঃখজনক বলবো। আগস্টের ভাবগাম্ভীর্য বাংলাদেশ ছাত্রলীগের যেভাবে করার কথা ছিল শীর্ষ নেতৃত্বের অবহেলার জন্য আমরা তা করতে পারিনি। এমনকি এই কমিটি বর্ধিতকরণ জটিলতার কারণে ১৯৭৫ এর পরে এই প্রথম বাংলাদেশে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আগস্টের প্রথম প্রহরের কর্মসূচিতে অনুপস্থিত ছিল। যা অত্যান্ত দুঃখজনক।

*** শোক মাস শুরু হওয়ার পূর্ব মুহুর্তে কমিটি বর্ধিত করা নিয়ে এক ধরনের বিতর্ক দেখা যাচ্ছে। এটা সংগঠনের জন্য কতটুকু ইতিবাচক?

এটা কখনো ইতিবাচক না, এই বিতর্কটা হওয়ার মুল কারণ সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সাক্ষরিত প্যাড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে। যাদেরকে নেতৃত্বে এনেছেন তার একটা সঠিক তালিকা তারা প্রকাশ করেনি। যদিও সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক বলছে ২৫০-৩০০ জন, কিন্তু আমরা যতটুকু জানি এই সংখ্যা ৭০০ এর অধিক জনকে তারা চিঠির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃত্বে এনেছে। এটা আসলে সংগঠনের জন্য লজ্জার। এখন ছাত্রলীগের পরিচয় পেয়ে কোন কর্মী যদি কোথায়ও গিয়ে কোন অপকর্ম করে তাহলে এর দায় আসবে সংগঠনের উপর। তখন মিডিয়াতে আসবে যে ছাত্রলীগের একটা ছেলে বা মেয়ে এই অপকর্ম করেছে। তাই আমি ছাত্রলীগে কর্মী তৈরিতে কোয়ানটিটে নয়, কোয়ালিটিতে বিশ্বাসী।

*** বর্ধিত কমিটিতে স্থান পাওয়া নেতৃবৃন্দ  সংগঠনের সাংগঠনিক ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে কতটুকু ভূমিকা পালন করতে পারবে বলে মনে করেন?

না না, কেন্দ্রীয় কমিটি আর কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ আলাদা বিষয়৷ সাধারণ সভায় উপস্থিত থাকবে কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের নেতৃবৃন্দ। সাধারণ সভায় কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের একজন নেতা তার সাংগঠনিক মতামত উপস্থাপন করতে পারবে। কিন্তু কেন্দ্রীয় কমিটিতে যাদেরকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এরা আমাদের দলীয় ফোরামে সাধারণ সভায় অংশগ্রহণ করার ক্ষমতা রাখে না।

*** আপনি তো বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি। সংগঠনের সহ-সভাপতি হিসেবে সাংগঠনিক কাজে কী কী ভূমিকা রাখতে পারছেন?

আপনি জেনে থাকবেন আমি এর আগের কমিটিতেও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সহ -সভাপতি ছিলাম। তখন আমি টাঙ্গাইল জেলার সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছি। বিগত কমিটি পূর্ণাঙ্গ হওয়ার চার মাসের মধ্যে সকলকে সাংগঠনিক দায়িত্ব বন্টন করে দেওয়া হয়েছিল। আমি তখন প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়েছি। কিন্তু বর্তমান কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয়েছে ২০১৯ সালের মে মাসে। অথচ আমাদের দায়িত্ব বন্টন হয়েছে ২০২২ সালে। এর মাঝে আবার করোনা মহামারীর প্রকোপ। তাছাড়া বর্তমান কমিটির দুই শীর্ষ নেতৃত্বের স্বেচ্ছাচারিতার প্রভাব রয়েছে। তাই বুঝতেই পারছেন এখানে দায়িত্ব পালনের সুযোগ কতটুকু থাকে।

*** দীর্ঘদিন ধরে আপনার জাতীয় সম্মেলনের দাবি করে আসছেন। এ দাবি করার কারণ কী এবং এর প্রেক্ষাপটটাও বা  কী?

দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছি যে একটা সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে দিয়ে যেন ছাত্রলীগ পরিচালিত হয়৷ আগে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ ছিলো ১ বছর। তখন ১ বছরের কমিটি কিন্তু ১ বছরের মধ্যেই সম্মেলন হতো। এরপরে দুই বছর করা হয়েছে কমিটির মেয়াদ৷ আপনি দেখবেন যে ৭৫ পরবর্তী সময়ে দীর্ঘদিন ২ বছরের কমিটি কিন্তু ২ বছরের মধ্যে নতুন সম্মেলনের আয়োজন করা হতো। তখন ছাত্রলীগ একটা কাঠামোর মধ্যে ছিলো। লিয়াকত সিকদার-নজরুল ইসলাম বাবু কমিটির সময় থেকে ছাত্রলীগের কমিটি একটু দীর্ঘমেয়াদি হয়ে গেছে। অবশ্য তখন বিরোধী দলীয় রাজনীতি সমীকরণ ভিন্ন ছিলো। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সারাদেশে সম্মেলন করেছে। কিন্তু করোনার অজুহাতে ছাত্রলীগ সম্মেলন করেনি৷ এ ক্ষেত্রে আমি বলবো যে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের দু'বছরের কমিটি যেন দু'বছরের মধ্যেই নতুন সম্মেলন হয়। এতে নিয়মিত ছাত্ররা ছাত্র রাজনীতির সুযোগ পাবে এবং স্বেচ্ছাচারিতা মুক্ত থাকবে সংগঠন।

*** আগামী সম্মেলনের মধ্য দিয়ে অনাগত নেতৃত্বের প্রতি কোন আহ্বান রাখতে চান কি না?

অবশ্যই আহবান থাকবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আমানত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। দেশরত্ন শেখ হাসিনার চলার পথ মসৃন রাখতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ভ্যানগার্ড হিসেবে কাজ করে। দেশরত্ন শেখ হাসিনার নির্দেশিত সকল আন্দোলন, সংগ্রাম ও দলের যেকোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সফল করার একমাত্র হাতিয়ার বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। তাই আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সারাদেশে ছাত্রলীগকে উজ্জীবিত করে, দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে যেন আবার বিজয়ী করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে এমন নেতৃত্ব যেন আগামী সম্মেলনে নির্বাচিত হয়। সবচেয়ে জনপ্রিয় ও ডেডিকেটেড ছাত্রনেতাদের দিয়েই যেন আগামীর নেতৃত্ব গঠিত হয়। এই প্রত্যাশা রইলো।

***ধন্যবাদ আপনাকে

আপনাকেও ধন্যবাদ।



বার্তাজগৎ২৪/ এমএ