অস্ট্রেলিয়ায় 'নো ল্যান্ডস ম্যান'

বার্তা জগৎ২৪ ডেস্ক:

প্রকাশিতঃ ২৪ ডিসেম্বর ২০১৯ সময়ঃ রাত ৩ঃ০৫
অস্ট্রেলিয়ায় 'নো ল্যান্ডস ম্যান'
অস্ট্রেলিয়ায় 'নো ল্যান্ডস ম্যান'

আফজালুর ফেরদৌস রুমন:

বলিউডের দক্ষ এবং জনপ্রিয় অভিনেতা নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকিকে নিয়ে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা জনপ্রিয় পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকী নির্মাণ করতে যাচ্ছেন তার প্রথম ইংরেজি চলচ্চিত্র 'নো ল্যান্ডস ম্যান'। উল্লেখ্য  ‘নো ল্যান্ডস ম্যান’ সিনেমায় অভিষেক ঘটতে যাচ্ছে মেলবোর্নভিত্তিক থিয়েটার শিল্পী মেগান মিচেল-এর। সাথে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আছেন তাহসান। 

আলোচিত এই সিনেমাটি প্রযোজনা করছে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর প্রতিষ্ঠান ‘ছবিয়াল’, অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা, স্কয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী, নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকির প্রতিষ্ঠান ‘ম্যাজিক ইফ ফিল্মস’ এবং প্রযোজক শ্রীহারি শাথে। উল্লেখ্য এই সিনেমার মধ্য দিয়ে জনপ্রিয় অভিনেত্রী তিশা প্রযোজক হিসেবে তার যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছেন। 

অস্ট্রেলিয়ার নানা মনোরম লোকেশনে সিনেমাটির শ্যুটিং চলছে। কিছুদিন আগে শ্যুটিং এর ফাকে আড্ডার সময় পরিচালক ফারুকী, অভিনেতা নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী, অভিনেত্রী মিচেল এবং সিনেমার অন্যতম একজন প্রযোজক তিশার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পায়। আজ অভিনেতা তাহসানের সাথে নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকীর সাথে একটি ছবি প্রকাশ করেন। সিনেমায় তাহসানের লুক কেমন হতে যাচ্ছে সেটির ও একটি আভাস পাওয়া যায় এই স্টিল ছবির মধ্য দিয়ে। 

আগেই কিছু সাক্ষাৎকারে ফারুকী জানিয়েছিলেন যে, সিনেমাটি ইংরেজি ভাষায় নির্মাণ করা হবে। যেখানে একজন দক্ষিণ ভারতীয় মানুষের পরিচয় সঙ্কটের সঙ্গে ঘটনাবহুল, অদ্ভুত এবং কিছুটা কৌতুকময় জীবন যাত্রার গল্প উঠে আসবে। তবে সেই মানুষটির অন্যরকম কিছু ঘটনা দেখা যাবে যখন অস্ট্রেলিয়ান এক নারীর সঙ্গে তার দেখা হবে আমেরিকায়। 

সিনেমার চিত্রনাট্যে ফারুকীর সঙ্গে আরও আছেন ডেভিড বারকার। ফারুকীর নতুন সিনেমাতে যুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী বলেছিলেন, এই সিনেমার চিত্রনাট্যটা আমি প্রথম যখন পড়ি তখন থেকে এটি আমার সাথে রয়ে গেছে। জোরালো রসবোধ, ব্যাঙ্গ-বিদ্রুপ এবং আবেগের মধ্য দিয়ে আজকের যুগের এক অদ্ভুত পৃথিবীকে আবিষ্কার করে এই চিত্রনাট্য। কিছু সিনেমা আছে যেগুলো আপনার অবশ্যই বানানো উচিত। একজন অভিনেতার সামর্থ্যের বাইরেও এই প্রজেক্টের সাথে যুক্ত হওয়ার জন্য আমি নিজের ভিতর একটা তাগিদ অনুভব করছিলাম, কারণ আমার মনে হয়েছে এটা এমন একটা সিনেমা অবশ্যই যেটা তৈরি হওয়া দরকার।

সিনেমায় শ্যুটিং শুরু হবার পরে ইতিমধ্যে ফারুকীর ভক্ত হয়ে গেছেন নওয়াজুদ্দিন। অনেক পরিচালকের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা তাঁর। একটি সাক্ষাৎকারে এই গুণী অভিনেতা বলেই ফেললেন, ফারুকী তাঁদের মধ্যে অন্যতম সেরা পরিচালক। তিনি বলেন, ‘তাঁকে আমি যতই দেখছি, ততই মুগ্ধ হচ্ছি। একজন পরিচালকের সবচেয়ে বড় গুণ হচ্ছে অভিনেতার কাছ থেকে সেরা অভিনয় বের করে নেওয়া। ফারুকী সেটা দারুণভাবে করেন।

অন্যদিকে এই দক্ষ অভিনেতার সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে ফারুকী জানান, আগে বেশ কয়েকবার একসাথে বসা হলেও এবার নওয়াজুদ্দিনকে নিউইয়র্কে প্রথম যেদিন দেখি, সেদিন আমি তাঁর অভিনয়ের প্রস্তুতি নিয়ে খুব কনফিউজড হয়ে যাই। তিনি ঘুরছেন-ফিরছেন, খাচ্ছেন। মনেই হয়নি অভিনয় নিয়ে তাঁর কোন প্রস্তুতির ব্যাপার আছে। কিন্তু যেই না আমি ক্যামেরা চালু করলাম, দেখলাম তাঁর নিখুঁত উপস্থাপন।’ নওয়াজের চরিত্রটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এ ছবিতে নওয়াজুদ্দিনের চরিত্রের অনেকগুলো স্তর। কখনো সে ভালো মানুষ, কখনো চূড়ান্ত খারাপ। আবার কখনো কমপ্লিকেটেড। কখন কী করছে, কনফিউজড। বিমানবন্দরের একটি টয়লেটে ছবির প্রথম দৃশ্যেই আমার মনে হয়েছিল, আমি আমার অভিনেতাকে পেয়ে গেছি। 

‘নো ল্যান্ডস ম্যান’ হতে যাচ্ছে ফারুকীর প্রথম ইংরেজি ভাষার চলচ্চিত্র। এর আগে এই সিনেমার চিত্রনাট্য একাধিক ফেস্টিভালে ফান্ড জিতে নেয়। ২০১৪ সালে প্রথম বুসান ফিল্ম ফেস্টিভালে এশিয়ান প্রজেক্ট মার্কেটে নির্বাচিত হয়। এরপর একই বছর নভেম্বরে ভারতের এনএফডিসি আয়োজিত ফিল্ম বাজারে শ্রেষ্ঠ প্রজেক্টের পুরস্কার লাভ করে। একই বছরের ডিসেম্বরে মোশন পিকচার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ আমেরিকা এবং এশিয়া প্যাসিফিক স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ড-এর যৌথ উদ্যোগে দেয়া অ্যাপসা ফিল্ম ফান্ড লাভ করে। প্রতিবছর এশিয়ার দুটি চলচ্চিত্রকে এই ফিল্ম ফান্ডের জন্য নির্বাচিত করা হয়। ২০১৪ সালে এটি পেয়েছিলেন পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং ইরানের বিখ্যাত নির্মাতা জাফর পানাহি। 

সব মিলিয়ে আশা করাই যায় যে ফারুকী 'নো ল্যান্ডস ম্যান' সিনেমাটি দিয়ে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের নাম আরো উজ্জ্বল করতে চলেছেন।

বার্তাজগৎ২৪/ এম এ

 

Share on: