পানছড়িতে পানের বাম্পার ফলন

বার্তাজগৎ২৪ ডেস্কঃ

প্রকাশিতঃ ২২ নভেম্বর ২০১৯ সময়ঃ রাত ৮ঃ১৪
পানছড়িতে পানের বাম্পার ফলন
পানছড়িতে পানের বাম্পার ফলন

আরিফুল ইসলাম মহিন, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

একটা সময় পানছড়িতে ছড়ার মুখের সমতল ভূমিতে প্রচুর পরিমাণে মিষ্টি পান উৎপাদন হতো। নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে এই পান নদী পথে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রপ্তানী করা হতো। ছড়ার মুখের পান থেকে পানছড়ি নামকরণ হয়। পানচাষীদের অনাগ্রহের কারণে পানের ঐতিহ্য বিলীন হতে চলছিল। কিন্তু সম্প্রতি পান ব্যাপারীদের চাহিদা থাকায় পানচাষীরা আবারও পানচাষ শুরু করেছে। পানের উৎপাদন আবারো কৃষকের মুখে হাসি ফুটিয়ে তুলেছে। যার ফলে পানছড়ির বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকায় সপ্তাহে দু’ তিন দিন পানের বিশাল হাট জমে উঠে ।

পানচাষী যতিন্দ্র চাকমা, রিপন চাকমা, চাথোই মারমা সহ অনেকের সাথে আলাপকালে জানা যায়, বর্তমানে পানের বাজার দর বেশ ভালো। এক বিড়া (৮০টি) পান সর্বনিম্ন ৩০ টাকা থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি চলে। তবে যারা দাদন নিয়ে চাষ করে তারা দাম কম পায়।

শনখোলা, যুবনাশ্বপাড়া, পূজগাং, কানুনগোপাড়া, তাপিতাপাড়া, রাজকুমার পাড়া, বাইগ্যাপাড়া, জগৎসেন পাড়া, বড়মোড়া, শান্তিপুর, লতিবান এলাকার পানের বরোজ থেকে চাষিরা টমটম, সিএনজি, মাহেন্দ্র ও কেউ কেউ কাঁধে ভর করে পান নিয়ে আসে। শনি, রবি ও বুধবারে করল্যাছড়ি, লোগাং, কানুনগোপাড়া, রাঙা পানিছড়া, কলেজ গেইট এলাকায় খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম ও হাটহাজারি থেকে পানের সন্ধানে বেপারিরা হাজির হয়।

করল্যাছড়ি, পূজগাং ও কলেজ গেইট এলাকায় পানের পাইকারী হাটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খণ্ড খণ্ড ভাবে জমেছে পানের হাট। কানুগোপাড়ার যতিন্দ্র চাকমা, সুহেল বিকাশ চাকমা পানচাষি বড় মোড়ার তাহেলী ত্রিপুরা, অচিন্দ্র ত্রিপুরা জানায়, বুধবারে করল্যাছড়ি, শনি-সোম কলেজ গেইট এলাকায় বিশাল হাট জমে। প্রতিদিন পানের থেকে বিশ লক্ষাধিক টাকার পান কেনাবেচা চলে। খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, হাটহাজারি থেকে আসা ব্যবসায়ী পারভেজ হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম, মোমিন উল্লাহ, সাইফুল, এরশাদ উল্লাহ, প্রিয়তোষ দে জানায়, তারা দীর্ঘ বছর ধরে পানছড়ির সাথে পান ব্যবসায় জড়িত। এখান থেকে পান নিয়েই দেশের বিভিন্ন স্থানে বাজার জাত করে থাকেন।

চাথোই মারমা, রিপন চাকমা, বিনয় কুমার ত্রিপুরা সহ বেশ কয়েকজন পানচাষী অভিযোগ করে বলেন, মাঝে মধ্যে পানে বিভিন্ন রোগ দেখা দেয়। যার মাঝে রয়েছে তেল পোকা রোগ, মাছের চোখ, ঝিনুক পঁচা, লেজ পঁচা, জুমমারা, গোড়াপচা ইত্যাদি। কৃষকদের ভালো প্রশিক্ষণ থাকলে যথাসময়ে রোগ বালাই নিরুপম করে, আরো লাভবান হওয়া যেত।

পানছড়ি সদর ইউপি চেয়ারম্যান নাজির হোসেন ও উল্টাছড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিজয় চাকমা বলেন, পানচাষীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা দরকার। প্রশিক্ষণে পরামর্শ পেলেই নিজেরাই পানের রোগ বালাই দুর করতে সক্ষম হবে।
পানছড়ি কৃষি অফিস ও চাষীদের তথ্য সুত্রে জানা যায়, বর্তমানে অত্র উপজেলায় ৩০ হেক্টর জমিতে পান চাষ হচ্ছে। চাষীর সংখ্যা দেড় হাজারেরও বেশী। একর প্রতি ৪০/৪৫ হাজার পানের আগা বা চারা লাগানো হয়। লাগানোর ৬/৭ মাস পর থেকেই পান পাতা উত্তোলন শুরু হয়। রোগ বা পোকার আক্রমণ না হলে একর প্রতি এক লাখ বিড়া (প্রতি বিড়ায় ৮০টি ) পান উৎপাদন সম্ভব। তবে পানে পোকার আক্রমণ খুব কম ছত্রাকজনিত রোগের প্রকোপ বেশী। রোপনের আগে ছত্রাকনাশক দিয়ে আগা শোধন না করলে পরবর্তীতে রোগ প্রতিরোধ করা কঠিন। রোপনের আগে কৃষকেরা কৃষি অফিসের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে পরামর্শ নিলে কাংঙ্খিত ফলন পাওয়া সহজ।

উপজেলা কৃষি অফিসার মো: আলাউদ্দিন শেখ জানান, পান চাষের জন্য এই এলাকার মাটি ও আবহাওয়া খুবই উপযোগী। পান চাষীদের উন্নত প্রশিক্ষণ দেয়ার চেষ্টা চলছে। আশা করা যাচ্ছে ভালো প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষকেরা আরো বেশী উদ্বুদ্ধ হবে। ফলে সামনে পান চাষের পরিমাণ দ্বিগুণ করার ব্যাপারে কৃষি অফিস আন্তরিকভাবে কাজ করবে।

বার্তাজগৎ২৪/ এম এ

Share on: