ভাবনায় বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী

বার্তাজগৎ২৪ ডেস্ক:

প্রকাশিতঃ ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ সময়ঃ রাত ২ঃ৩৩
ভাবনায় বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী
ভাবনায় বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী

বার্তাজগৎ২৪ ডেস্ক:

বাংলাদেশ স্বাধীন সার্বভৌম নির্দিষ্ট ভূ-খণ্ডের একটি দেশ। বাংলা নামক এ ভূ-খণ্ডের রয়েছে শাসন-শোষণ, জমিদারিসহ নানা কৃষ্টি কালচারের এক মিশ্র ইতিহাস। তবে আধুনিক সৃষ্টিশীল চিন্তা-চেতনা'র ইতিহাস খুব স্বল্প সময়ের। আধুনিক চিন্তা- চেতনার সাথে আমাদের এই উর্বর ভূমিতে বেড়ে উঠে এক বিশাল নেতৃত্ব। যে নেতৃত্বের মহানায়কের জন্ম হয়েছিল ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জ মহাকুমা নামক স্থানের টুঙ্গিপাড়া গ্রামে। ২০২০ সালের ১৭ মার্চ হতে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যদিয়ে পালিত হতে যাচ্ছে এই মহানায়কের জন্মশতবার্ষিকী। ২০২০ সালের ১৭ মার্চ হতে ২০২১ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত সময়টাকে মুজিববর্ষ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। বছরটি আমাদের জন্য খুবই গৌরব এবং তাৎপর্যের। ২০২১ সালটিতে পালিত হবে বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তী, এমনকি ডিজিটাল বাংলাদেশের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে বছরটিকে লক্ষ্য করে। বাংলা ভাষাভাষীর লোক সারা পৃথিবীতে ছিল। কিন্তু বাঙালির কোন জাতিরাষ্ট্র ছিল না। বাঙালির সকল ক্ষেত্রে অগ্রগতি থাকা সত্ত্বেও কোন জাতিরাষ্ট্র কেউ প্রতিষ্ঠিত করতে পারেনি। এটি করেছেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দার্শনিক হেগেল বলেছেন, মানুষের শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হলো রাষ্ট্র। তার মতে মানুষ যা কিছু সৃষ্টি করুক না কেন, রাষ্ট্র সৃষ্টি মানুষের শ্রেষ্ঠ অবদান।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করতে গিয়ে আমাদের আলোচনা হতে পারে সার্ধশতবার্ষিকী নিয়ে, আলোচনা হতে পারে দ্বিশতবার্ষিকী নিয়েও।তবে জন্মশতবার্ষিকীর রয়েছে একটি ভিন্ন তাৎপর্য ও গুরুত্ব। আজকের তরুণপ্রজন্মের কাছে যদি আমরা বঙ্গবন্ধুকে একজন শোষিত-বঞ্চিত নিপিড়ীত মানুষের  নেতা, একজন গণতন্ত্রকামী, একজন মুক্তিদাতা হিসেবে পৌঁছে দিতে পারি, তাহলে তারা অনেক কিছু শিখতে পারবে। জানতে পারবো বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি সৃষ্টির পেছনের কারিগরদের ইতিহাস। বঙ্গবন্ধুর সহযোগী এবং তার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে যারা এদেশকে স্বাধীন করেছে তাদের ইতিহাস। তবে এবারই কিন্তু এদেরকে পাওয়া যাবে। সার্ধশতবার্ষিকী বা দ্বিশতবার্ষিকীতে তাদের আর পাওয়া যাবে না। এদিক থেকে এবারের জন্মশতবার্ষিকী বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এজন্য নানা কর্মসূচির মধ্যে ডকুমেন্টেশনের ক্ষেত্রে আমাদের বিশেষভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। বঙ্গবন্ধুর প্রাসঙ্গিকতাকে দেশে বিদেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়সহ স্মৃতিবিজড়িত স্থানসমূহে সেমিনার, আলোচনার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ এবং বাংলাদেশ নিয়ে যেসব ঘটনা ঘটেছে সেসব ঘটনায় যারা প্রত্যক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট ছিলেন তাদের বক্তব্য, অভিজ্ঞতা, স্মৃতিচারণ থেকে তথ্য সংগ্রহ এবং প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করতে হবে। এদের সবারই বয়স হয়ে গেছে। চাইলেই আগামীতে তাদের আমরা আর পাব না।

বিশ্ব রাজনীতিতে নেলসন ম্যান্ডেলা, মহাত্মা গান্ধী, মাও সেতুংদের মতো বঙ্গবন্ধুও নন্দিত নেতা। এসব নেতাদের অবদান মানুষের কাছে হাজার হাজার বছর ধরে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর অবদান অনেক বিশ্ব নেতাদের চেয়েও বেশি। বঙ্গবন্ধুর দৃষ্টিভঙ্গি, দর্শন ছিল একটু ব্যতিক্রম। তিনি সাম্যের নতুন ধারণা দিয়েছেন।গণতন্ত্রের সংজ্ঞা দিয়েছেন। আব্রাহাম লিংকন গণতন্ত্রের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন, জনগণের দ্বারা, জনগণের জন্য, জনগণের সরকার। বঙ্গবন্ধু গণতন্ত্রের সংজ্ঞা দিয়েছেন ৭ মার্চ ভাষণে। তিনি উল্লেখ করেছেন যদি একজনও সঠিক কথা বলে আমরা সংখ্যায় যাই হই না কেন, তা মেনে নিব। লিংকনের মতে বেশির ভাগ লোক যা বলবে সেটাই গণতন্ত্র। কিন্তু বঙ্গবন্ধু বলেছেন, বেশির ভাগ যা বলবে সেটা গণতন্ত্র নয়, এমনকি সবাই মিলে যা বলবে সেটাও গণতন্ত্র নয়। তিনি ন্যায্যতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

বঙ্গবন্ধুর এ জন্মশতবার্ষিকীকে বিশ্ব পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। দেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে, আমরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছি, বিশ্বের বুকে সফল জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছি। এক সময় মধ্যম আয় থেকে ধনী দেশে পরিণত হব। কিন্তু আমাদের শুরুটা বিশ্বের বুকে তুলে ধরতে হলে বঙ্গবন্ধুর জীবন আলেখ্য সবার আগে তুলে ধরতে হবে। ফ্রাঙ্কফুর্ট বই মেলাতে মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন বঙ্গবন্ধু। কলকাতায় এবারই প্রথম কোন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে উৎসর্গ করে বই মেলা হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থান সমূহের মধ্যে বিশেষ করে দিল্লি, আগড়তলা, লন্ডন, নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটনসহ বিশ্বের প্রায় সকল দেশে মুজিববর্ষ পালিত হবে। নেতাদের অনেকে বিপ্লব করেছে, বারবার নির্বাচনে জয় লাভ করেছে কিন্তু বঙ্গবন্ধুর মত রাষ্ট্র জন্ম দিয়েছেন এমন নেতার সংখ্যা বিশ্বে বিরল। বঙ্গবন্ধু কাজটি করেছেন মাত্র ৫০ বছর বয়সে। এ বিষয়গুলো বঙ্গবন্ধুকে ব্লাক আউট করার সময় বেড়ে উঠা প্রজন্মের মধ্যে অভিনব কায়দায় তুলে ধরতে হবে। প্রতিটি জেলা- উপজেলায় দলীয় সংগঠন বিশেষ করে ছাত্রলীগের মাধ্যমে এ কাজগুলো করা যেতে পারে। জেলার মাধ্যমে বিভিন্ন উপজেলা এবং প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ডকুমেন্টেশন তৈরি এবং প্রদর্শনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করা যেতে পারে। স্ব -স্ব জেলায় বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ছোট ছোট বই বের করা যেতে পারে এবং সেগুলো সংগ্রহ করে জাতীয়ভাবে তাদের পুরস্কৃত করা যেতে পারে। এছাড়াও ২০২১ সালের বই মেলায় এর ব্যাপক একটা সমারোহ হতে পারে। তবে কাজগুলো করার সময় এ কাজের সাথে যারা জড়িত থাকবে তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা থাকতে হবে। তারা যাদের সোর্স হিসেবে উল্লেখ করবে তাদের গ্রহণযোগ্যতা থাকতে হবে। পুরো বিষটিকে ফলপ্রসূ করার জন্য সকলকে সতর্কতার সাথে কাজগুলো করতে হবে।

রনি মুহাম্মদ

কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক, 

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

Share on: