রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী করোনা ভ্যাকসিন আসছে ১২ আগস্ট!

দিদারুল ইসলাম:

প্রকাশিতঃ ৮ অগাস্ট ২০২০ সময়ঃ রাত ৯ঃ৪৯
রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী করোনা ভ্যাকসিন আসছে ১২ আগস্ট!
রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী করোনা ভ্যাকসিন আসছে ১২ আগস্ট!

 

দিদারুল ইসলাম:

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস গত বছরের ডিসেম্বরে প্রথম আঘাত হানে চীনে। এরপর সেখান থেকে ছড়িয়ে পড়েছে গোটা পৃথিবীতে।  এই ভাইরাসের মরণকামড় থেকে থেকে একমাত্র ভ্যাকসিনের মাধ্যমেই মুক্তি মিলবে। এটি জানার পর বিশ্বের অনেক গুলো দেশ করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কারে মরিয়া হয়ে পড়ে। তবে এই আবিষ্কারের দৌড়ে সবার আগে সুখবর দিচ্ছে রাশিয়া।

দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী,রাশিয়ার হাত ধরে বিশ্বের প্রথম করোনা ভ্যাকসিন আসছে আগামী ১২ আগস্ট। এই ভ্যাকসিন এনে পুরো বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিতে চান রাশিয়ার বিজ্ঞানীরা।

নভেল করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন বাজারজাত করার জন্য পরীক্ষামূলক প্রয়োগের সব কয়টি ধাপই ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে বলে দাবি করেছে রাশিয়ার সেচেনভ বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক। এর আগে তারা জানিয়েছিলেন যে, আগামী ১২ থেকে ১৪ আগস্টের মধ্যেই এই ভ্যাকসিন বাজারে আসছে। এর পরে পুরোপুরি নিশ্চিত করা হয়েছে যে, ১২ আগস্টেই এটি চলে আসছে।

রুশ গবেষকদের দাবি অনুযায়ী, বিশ্বের যেসব দেশ ভ্যাকসিন তৈরির দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে, তাদের মধ্যে অন্যতম রাশিয়া। তারা বলছেন, রাশিয়া ছাড়া এখন পর্যন্ত বিশ্বের অন্য কোন দেশ করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শেষ ও সফল করার দাবি করতে পারেনি।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে এই ভ্যাকসিন তৈরি করেছে গামালেয়া রিসার্চ ইনস্টিউট। শুক্রবার একথা জানিয়ে দেশটির উপ-স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওলেগ গ্রিডনেভ বলেন, সাফল্যের সঙ্গে এই ভ্যাকসিন আনা সম্ভব হলে এটিই হবে বিশ্বের প্রথম করোনার ভ্যাকসিন।

আপাতত এই ভ্যাকসিনের তৃতীয় বা শেষ পর্যায়ের ট্রায়াল চলছে। উপ-স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও বয়স্ক লোকদেরই এই ভ্যাকসিন আগে দেওয়া হবে। মস্কোর তরফ থেকে পরিকল্পনা করা হয়েছে যে, অক্টোবরেই এই ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হবে। একসঙ্গে অনেক মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, গামালেয়া ভ্যাকসিনটি শর্তসাপেক্ষে আগস্টে নথিভুক্ত করা হবে। এর অর্থ হলো ব্যবহারের জন্য অনুমতি দেওয়া হচ্ছে তবে পাশাপাশি তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ চলবে। ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল যতদিন না সম্পূর্ণ হচ্ছে ততদিন তা শুধুমাত্র চিকিৎসকরাই নিয়ন্ত্রণ করবেন।

অন্যদিকে বিশ্বের অধিকাংশ বিজ্ঞানী এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা তাড়াহুড়ো করে ভ্যাকসিন বের করার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। তারা বলছেন, নিরাপত্তা এবং কার্যক্ষমতার ব্যাপারে নিশ্চিত না হয়ে ভ্যাকসিন ব্যবহারের জন্য অনুমোদন করা মোটেও উচিত নয়।

বার্তাজগৎ২৪/ এম এ

Share on: