ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির পদ সবার জন্য উন্মুক্ত!

বার্তাজগৎ২৪/ এমএ
নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রকাশিত: ৩:৪৯ অপরাহ্ন, ০২ অগাস্ট ২০২২ | আপডেট: ৯:২৯ অপরাহ্ন, ১১ অগাস্ট ২০২২
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্যাড

৩১ জুলাই রাতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি বর্ধিত করা হয়েছে। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য সাক্ষরিত নামবিহীন প্যাড ভাইরাল হয়েছে। এতে যে কেউ নিজের নাম বসিয়ে হয়ে যাচ্ছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নেতা।

বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সৈয়দ আরিফ লিখেন, বিএনপি জামায়াত উল্লাস করে আগস্ট মাসে। আর আমাদের দুই নেতাও উল্লাসের উপলক্ষ্যে সৃষ্টি করলেন আগস্ট মাসে। এই নেতারাই কিছুদিন পূর্বে নির্বাহী সংসদের সামনের সারির নেতাদের মোশতাক হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলো। এখন প্রশ্ন হল, মোশতাক আসলে কারা ?

আরেক সহ-সভাপতি সাখাওয়াত সৈকত লিখেন, চামচা ও বাসা পাহারা দেওয়া স্টাফ গুলো চুপ কেনো? অবশ্য চুপ থাকারই কথা কারণ তাদের পকেটে এখন প্রচুর ভারী! ঝড় হয়েছে আম পড়েছে এবং তারা প্রচুর আম কুড়িয়েছে। আমের বাম্পার ফলনের ঠেলায় গাছের শিকড় নড়বড়ে প্রায়!! ভাবা যায়, হেতেরে কামডা করলো কি….!!!

ছাত্রলীগ নেতা এস এম মামুন লিখেন, *জয় লেখক পাওয়ারলেস না- কারণ তারা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেনেতৃত্বকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে সম্মেলন আয়োজন না করে পদ ধরে রেখেছে। *তারা পাওয়ারফুল বলে শোকাবহ আগস্টের ভাবগাম্ভীর্যের বিপরীতে ঘন্টা দুয়েকের মধ্যে ডজনকে ডজন কমিটি রিলিজ করে সারা বাংলাদেশে ছাত্রলীগে অভিনন্দিত আনন্দের বন্যা বইয়ে দিয়েছে। ছাত্রলীগের ইতিহাসে তারা জুলাইয়ের শেষ রাতে দ্রুততম সময়ে অধিক কমিটি প্রদানকারী হিসেবে নিজেদের নাম লিখিয়েছেন। তারা যোগ্য নেতা বলেই কেন্দ্রীয় কমিটির কলেবর বর্ধিত করতে গিয়ে ৩০০ থেকে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ১৩০০ করেছে। কমিটির ঝাঁপি এমনভাবে খুলে রেখেছে (গুলিস্তানের হকার মার্কেট) যে- কে কাকে কি পদ দিচ্ছে তা নিজেরাও জানে না!! **বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া আগস্টে জন্মদিন পালন করে ঘৃণিত ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন। আর জয়- লেখক আগস্ট ট্রাজেডি স্মৃতি ভুলিয়ে দিতে কমিটি দিয়ে খুশির নহর বইয়ে দিয়ে প্রজন্মকে বুঝাতে চেয়েছে আগস্ট বেদনা ধারণ করার বিষয় না পালন করলেই হবে!! একেই বলে পোস্ট অব পাওয়ার পলিটিক্স!!

সহ-সভাপতি কামাল খান লিখেন, রক্তক্ষরণ হচ্ছে! শোকের মাস ও সংগঠনের স্বার্থেই দুদিন চুপ ছিলাম। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সভাপতি/সম্পাদকের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপনের জন্য সভা আহবানের প্রস্তাব করছি।

সোহান খান লিখেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের দুই শীর্ষ নেতৃত্বকে অনুরোধ করবো সংগঠনের স্বচ্ছতার স্বার্থে নাম সহ নির্দিষ্ট তালিকা প্রকাশ করুণ, কতজনকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদায়ন করেছেন..! আর যদি প্রকাশ না করেন, তবে অপকর্মকারীদের দায়ভার আপনাদেরই নিতে হবে।

ইয়াজ আল রিয়াদ লিখেন, আগস্ট আমাদের সমগ্র বাঙালির জন্য শোকের মাস। জয়- লেখক কি এটা অনুধাবন করতে অক্ষম।

শেখ নকিবুল ইসলাম সুমন লিখেন, হল কমিটিতে বাদ পরা ছেলেমেয়ে গুলো দীর্ঘদিন পরে একটা পরিচয় পেয়েও বিব্রতকর একটা অবস্থার মধ্যে পরে গেলো! কে আসল কে নকল বুঝা বড়ই মুশকিল। আপনি এখন যত লিস্ট করে প্রকাশ করে করেন না কেনো, এদের পরিচয় দেওয়া কি বন্ধ করতে পারবেন?

এই পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণের একটাই উপয় আর সেটা হলো, জয়-লেখক যদি এই মূহুর্তে পদত্যাগ করে তাহলে আর তাদের সাইন দিয়ে কেউ নেতা দাবি করতে পারবে না। না হয় এটার সিলসিলা জয়-লেখক যতদিন চেয়ারে থাকবে এটা চলতেই থাকবে। সংগঠনের স্বার্থে এদের পদত্যাগ করা/করানো উচিত।

বার্তাজগৎ২৪/ এমএ