জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল : আ স ম রব

বার্তাজগৎ২৪/ এমএ
নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রকাশিত: ৫:৪৫ অপরাহ্ন, ১০ অগাস্ট ২০২২ | আপডেট: ৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২
আ স ম রব

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন ভর্তুকি দিয়ে দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে সরকারের এ তথ্য অসত্য ও ভিত্তিহীন। সরকার সত্যকে আড়াল করে 'মিথ্যার কারখানা' হতে পারে না উল্লেখ করে স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলক, জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব গণমাধ্যমে নিম্নোক্ত বিবৃতি প্রদান করেন। 

আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে অনেক বেশি দামে ভোক্তার কাছে জ্বালানি তেল বিক্রি করে বিপিসি ৪৮ হাজার কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করার পর আরো অতিরিক্ত লাভের জন্য জনগণকে জিম্মি করে ৫০% দাম বৃদ্ধি করা রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। 

কারণ, গত ৮ বছরে সংস্থাটির এ বিপুল পরিমাণ মুনাফা করায় উক্ত সময়ে তাদের কোন ভর্তুকি দিতে হয়নি। বরং লাভের টাকা এফডিআর করে সুদ বাবদ মোটা অংকের অর্থ আয় করেছে। তেলের দাম না বাড়িয়েও যে দামে তেল বিক্রি করছিল তাতেও বিপিসির মুনাফা হচ্ছিল।

পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের ব্যাংকে জমাকৃত টাকার পরিমাণ ৩২ হাজার কোটি টাকা, সরকার নিয়েছে ১২ হাজার কোটি টাকা, আয় কর পরিশোধ করেছে ৫৭০ কোটি টাকা। তারপরও পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লোকসানে দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে বলে সরকারের অসত্য বয়ান জনগণের সাথে প্রতারণার নামান্তর।

লোকসানের বানোয়াট দায় চাপিয়ে দিয়ে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিকে যৌক্তিক বলার সরকারের অপ্রয়াস ভয়ংকর অপরাধ।

রাষ্ট্র কোন ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নয়। রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হচ্ছে পরিকল্পিত অর্থনীতি বিকাশের মাধ্যমে উৎপাদন শক্তির ক্রমবৃদ্ধি সাধন, এবং জনগণের জীবনযাত্রার বস্তুগত ও সংস্কৃতিগত মানের উন্নতি সাধন। রাষ্ট্র জনগণকে জিম্মি করে কোন ব্যবসায় জড়িত হতে পারে না।

জনগণের দুর্ভোগ নিরসন এবং রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার প্রয়োজনেঃ 

১) আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে জ্বালানি তেলের মূল্য নিম্নমুখী হওয়ায় দেশে ৫০ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধির আদেশ অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।

২) পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন আন্তর্জাতিক বাজার দরের চেয়ে বেশি দামে তেল আমদানি মাধ্যমে টাকা পাচার (over invoicing) এর অভিযোগে 'তদন্ত কমিশন' গঠন করতে হবে।

৩) তেল আমদানির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শুল্ক ও মূসক ধার্য পুনঃবিবেচনা করতে হবে।

৪) যারা কম দামে তেল কিনে ভোক্তার কাছে দুই গুণ বা তিন গুণ দামে বিক্রি করে মুনাফা করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৫) বিপিসি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় জনগণের টাকায় মুনাফা করে যে সকল বিলাসী প্রকল্প নিয়েছে সে সকল প্রকল্প দ্রুত স্থগিত করতে হবে।

৭) বিপিসি যে সকল প্রকল্প বৈদেশিক ঋণের টাকায় বাস্তবায়ন করছে তা বন্ধ করে  আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

৮) বিপিসির লাভের টাকা দিয়ে প্রয়োজনে তেলে ভর্তুকি প্রদান করতে হবে।

৯) জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের তুঘলকি কাণ্ড, দুর্নীতি ও অপচয় উদঘাটনে 'কমিশন' গঠন করতে হবে। 

জনগণকে চরম দুর্দশার দিকে ঠেলে দেওয়ার অধিকার রাষ্ট্রীয় কোনো প্রতিষ্ঠানের নেই। এর সকল দায় গণবিরোধী সরকারকে বহন করতে হবে।

বার্তাজগৎ২৪/ এমএ