ইডেন ছাত্রলীগের পদে আসতে মরিয়া বির্তকিতরা

বার্তাজগৎ২৪/ এমএ
বার্তাজগৎ২৪ ডেস্ক : বার্তাজগৎ২৪ ডেস্ক :
প্রকাশিত: ৫:০২ অপরাহ্ন, ১০ এপ্রিল ২০২২ | আপডেট: ৩:১৫ পূর্বাহ্ন, ২৯ জুন ২০২২

ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের পদ পেতে দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন পদ-প্রত্যাশী নেত্রীরা। দুই শীর্ষ পদে এগিয়ে রয়েছে নানাভাবে সমালোচিত ও বির্তকিত নেত্রীরাও। শুধু বির্তকিত তাই নয়, বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত সন্তানেরাই ছাত্রলীগে শীর্ষ পদে আসতে মরিয়া। যে কোনো মূল্যে পদ বাগিয়ে নিতে রাত-দিন সমানতালে দৌড়ঝাপ করছেন তারা। শুধু শীর্ষ নেতার বাসাই নয়, তাদের ঘনিষ্টজনদের বাসা বাড়ীতেও যাতায়াত করছেন সব সময়।

জানা গেছে, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশীর সংখ্যা কমপক্ষে ২০ জন। এরমধ্যে ১২-১৩ জন রয়েছেন চরম বির্তকিত। এই বির্তকিতরাই এগিয়ে জোর লবিংয়ে।

জানা গেছে, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের জন্য যারা আলোচনায় আছেন, তারা হলেন, রোকসানা আকতার, ইসরাত জাহান ইতি, সানজিদা জাহান, সোনালী, সাবিকুন্নাহার তামান্না, তামান্না জেসমিন রিভা, সানজিদা চৌধরী,  রাজিয়া, সুমা বিন্তি, পাপিয়া, সুষ্মিতা সহ অনেকেই।

আরও পড়ুন : পুলিশ জনগণের সেবক এই বিশ্বাস অর্জন করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

ইডেন ছাত্রলীগ সূত্র জানায়, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন চরম বির্তকিত ও ছাত্রলীগের অনুপ্রবেশকারীরাই।

সভাপতি হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে তামান্না জেছমিন রিভা। তিনি ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্রাচার্যের অনুসারী। রিভা বিবাহিত, জোবায়দুল হক রাসেলের মাই ম্যান হিসেবে পরিচিত রাজনৈতিক মহলে।

আরেক সভাপতি প্রার্থী ইসরাত জাহান ইতিও বিবাহিত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার স্বামীর নাম অপু ভুইয়া। ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ন-আহবায়ক। ইতি লেখক ভট্রাচার্যের অনুসারী। ইতির বিরুদ্ধে ক্যান্টিনে বকেয়া পরিশোধ না করার অভিযোগ রয়েছে।

আরেক প্রার্থী সোনালি, তার বিরুদ্ধে পরিবার বিএনপির রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পাওয়া যায়। তার একটা ভিডিও বিভিন্ন মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

লেখক ভট্রাচার্যের দিকে আরেক প্রার্থী রোকসানা। ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ন-আহবায়ক এ.এইচ কামাল হোসেনে সাথে অন্তরঙ্গ ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল। কক্সবাজার নারী সাপলাই অভিযোগের তামান্নার পার্টনার ছিল বলে জানা যায়। ইডেন কলেজ হলে লিগ্যাল রুমে গিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর চাপ প্রয়োগ করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের গণধোলাই এর শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিল একবার। জানা যায়, বঙ্গমাতা হলের হল সুপারের সাথে গত পরশু অসাদচরণ করে। ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা বেনজির হোসেন নিশির কাছে অবহিত করা হয় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে।

আরেক পদ প্রত্যাশী সাবিকুন্নাহার তামান্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে সে বিবাহিত। তার স্বামীর নাম সরদার মোহাম্মাদ আলী মিন্টু। তামান্না ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের অনুসারী। তার বিরুদ্ধে কক্সবাজারে নারী সাপলাই এর অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তামান্না ও রোকসানা কে মৌখিকভাবে ১ বছরের জন্য সাময়িক বহিষ্কার করে তৎকালীন আহবায়ক কমিটি।

আল নাহিয়ান খান জয়ের দিকের আরেক প্রার্থী সানজিদা চৌধরী। এই সানজিদা চৌধরী লাল মাটিয়া মহিলা কলেজ থেকে অনার্স করেছেন।এখন ইডেন কলেজে মাস্টার্স করছেন। তার অন্তরঙ্গ মুহুর্তের ছবি ভাইরাল হয়েছে।

আল নাহিয়ান খান জয়ের অনুসারী আরেক প্রার্থী সুমা। তার বিরুদ্ধে বিবাহিত অভিযোগ রয়েছে। তার স্বামীর নাম সুলতান মাহমুদ। ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ন-আহবায়ক। সম্প্রতি প্রশ্নফাঁস চক্রে আটক হওয়া নাসরিন রুপার অনুসারী ছিল এই সুমা। প্রশ্নফাঁস চক্রে অজ্ঞাত তালিকায় তার নাম রয়েছে বলে জানা যায়।

অন্য আরেক প্রার্থী ফাতিমা খানম বিন্তি। মাতৃজগৎ নামের একটি পত্রিকায় ক্রাইম রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত আছেন বলে জানা যায়। সেও বিবাহিত, তার স্বামীর নাম এম.আর মামুন। তিনি মাতৃজগৎ নামক পত্রিকার চিফ ক্রাইম রিপোর্টার।

অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে আরো আছে রাজিয়া। তিনি ক্যাম্পাসে রাজনীতি শুরু করছেন ১ বছর যাবৎ। ক্যাম্পাসে সাংগঠনিক অবস্থান নেই। রাকা চৌধুরী বিবাহিত,নসুষ্মিতাকে ক্যাম্পাস থেকে বের করা দেয়া হয়েছিল বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে।পাপিয় রায়ের বিরুদ্ধে অন্যের স্বামী ছিনতাই সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, ইডেন ছাত্রলীগের দায়িত্ব পেলেই হল বাণিজ্য সহ নানা রকম তদবির বাণিজ্য করে তারা ঢাকায় বিলাসী জীবন যাপনের পাশাপাশি গ্রামের বাড়িতেও করেছেন বহুতল ভবন। রয়েছে নিজস্ব পাইভেট কারও। লোভনীয় এই পদে আসতে জোর লবিং শুরু করেছেন বির্তকিত এসব নেত্রীরা। তারা ‘যে কোন মূল্যে’ পদ চান। বির্তকিত ও অনুপ্রবেশকারী এসব নেত্রীদের কারণে ‘অনেক’ কোনঠাসা পারিবারিকভাবে আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ও ছাত্রলীগের ত্যাগী নেত্রীরা। কারণ বির্তকিত এই নেত্রীদেরই বেশি পছন্দ করে ছাত্রলীগের দুই শীর্ষ নেতা।

এর আগে ২০১৬ সালের ১ নভেম্বর তাছলিমা আক্তার কে আহ্বায়ক, ১৫ জন যুগ্ম আহ্বায়ক, ও ৪৩ জন সদস্য নিয়ে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস.এম.জাকির হোসাইন। তিন মাসের আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে চলছে ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রলীগ। রাজধানীর অন্যতম প্রাচীন এ বিদ্যাপীঠে ৫ বছরেও  কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি। এদিকে দীর্ঘ সময়েও কমিটি না হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন পদপ্রত্যাশীরা। তাছাড়া কমিটি ছাড়া লম্বা সময় সাংগঠনিক কার্যক্রম চলায় অনেকে রাজনীতিতে আগ্রহ হারাচ্ছেন।

এ বিষয়ে জানতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তারা রিসিভ করেননি।

বার্তাজগৎ২৪/ এমএ